হাসপাতালে ভর্তি হননি প্রসূতি। অথচ তাঁর নামে নিশ্চয় যানে বাড়ি ফেরানোর বিল জমা পড়েছে। কোথাও আবার হাসপাতাল থেকে প্রসূতির বাড়ির দূরত্ব তিন কিলোমিটারেরও কম, অথচ নথিতে দেখানো হয়েছে ১৫ কিলোমিটার। কল্যাণী জেএনএম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিশ্চয় যানের বিল নিয়ে এমনই একাধিক গরমিল সামনে এসেছে।
গত বছর জানুয়ারি থেকে বিল জমা না দিয়ে সম্প্রতি এক সঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার বিল জমা দিয়েছিলেন ১৩টি নিশ্চয় যানের মালিকেরা। প্রথম দফায় সেই বিলের টাকা অনুমোদনও হয়ে যায়। পরে বিষয়টি হাসপাতাল সুপারের নজরে আসতেই তিনি অনুমোদনের বিষয়ে আপত্তি জানান। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়। তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছে দফতর।
তৃণমূল সরকার আসার পরে প্রসূতি ও সদ্যোজাতকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে বাড়ি পৌঁছে দিতে চালু হয়েছিল নিশ্চয়যান প্রকল্প। হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ গাড়ির মালিকেরা প্রসূতিদের ছুটির সময় দেওয়া নির্দিষ্ট কাগজের ভিত্তিতে বিল জমা দেন। সেই ব্যবস্থাতেই ভুয়ো বিল জমা পড়েছে বলে অভিযোগ।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, বিলের সঙ্গে প্রসূতি বিভাগের নথি মিলিয়ে দেখতে গিয়ে কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা যায়, যে প্রসূতির নামে বিল জমা পড়েছে, তিনি আদৌ হাসপাতালে ভর্তি হননি। এমনকি প্রসূতির ছুটির সময় নিশ্চয় যানের জন্য দেওয়ার কথা যে কাগজ, তা-ও সংশ্লিষ্ট প্রসূতি ছাড়াই চালকদের হাতে পৌঁছেছে। কতগুলি বিল ভুয়ো এবং কত টাকার গরমিল হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন হাসপাতালের অর্থ বিভাগের এক আধিকারিক, নার্সিং সুপার এবং প্রসূতি বিভাগের সিস্টার ইন-চার্জরা। বিল অনুমোদনের আগে যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোথায় ফাঁক ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। হাসপাতালের কর্মী বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা ছিল কি না, অন্যথায় এই ধরনের দুর্নীতি হওয়া সম্ভব কি না, উঠছে সেই প্রশ্নও।
বুধবার হাসপাতালের সুপার ধ্রুবজ্যোতি সরকার বলেন, “স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গরমিল যে হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তদন্তে যা উঠে আসবে, তা দফতরকেজানানো হবে।”