ছাগল চুরি করতে দেখে ফেলেছিল এক নাবালক।ঘটনাচক্রে, মঙ্গলবার দুপুরে সেই নাবালকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল মালদহের কালিয়াচক-১ ব্লকের সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চামাগ্রাম বাগানপাড়া সংলগ্ন একটি লিচুবাগান থেকে। পরিবারের অভিযোগ, এলাকার কয়েক জনকে ছাগল চুরি করতে দেখে ফেলায় ওই নাবালককে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহ লিচুগাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক জনকে আটক করেছে তারা।
মৃত কিশোরের নাম ফাহিম শেখ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাহিম বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে ২টোর মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি পরিবারের। ফাহিমের মায়ের অভিযোগ, এলাকার কয়েক জনকে ছাগল চুরি করতে দেখে ফেলেছিল তাঁর ছেলে। সেই কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “আমার ছেলেকে ফাঁসি দিয়ে মারা হয়েছে। আমরাও দোষীদের কঠোরতম শাস্তি চাই।”
আরও পড়ুন:
পরিবারের আরও অভিযোগ, নাবালককে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় কালিয়াচক থানার পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জসিম শেখ নামে এক যুবককে ধরে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরে জসিমকে আটক করে পুলিশ। তিনি আরফাজুল শেখের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের। ওই ব্যক্তি এখনও পলাতক।
নাবালকের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, ছাগল চুরির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আদৌ কোনও যোগ রয়েছে কি না এবং কী ভাবে মৃত্যু হয়েছে— সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।