যে পুজোয় তৃণমূল নেতাদের উদ্বোধনে দেখা যেত সেখানে এখন ভিড় বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের। বিজেপি প্রভাবিত যে উদ্যোক্তারা এতদিন নিঃশব্দে পুজোর আয়োজন করতেন, সেখানে এ বার গেরুয়া শিবিরের জমকালো উপস্থিতি। উল্টো দিকে তৃণমূলের প্রভাবশালীরা অরাজনৈতিক পরিচয়ে শামিল পুজোয়। উত্তরের বিভিন্ন জেলার গণেশ পুজোয় এমনিই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে রাজ্যে পালাবদলের পরে।
জলপাইগুড়ির পাণ্ডাপাড়ায় যে পুজো কমিটির মঞ্চে এতদিন তৃণমূল নেতাদের দেখা যেত এ বার সেই পুজো উদ্বোধন করলেন বিজেপির সাংসদ জয়ন্ত রায় এবং বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। শিলিগুড়ির একাধিক গণেশ পুজো কমিটিতে বিজেপির নিয়ন্ত্রণ জোরদার হয়েছে। শিলিগুড়ির কলেজপাড়া গণেশ পুজো কমিটির পুজোয় এ বার বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা ছিলেন মুখ্য অতিথি। অন্য দিকে, কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলা গ্রাউন্ডে যে পুজো হচ্ছে সেই পুজো কমিটিতে এতদিন তৃণমূল নেতাদের দাপাদাপি ছিল। এ বছর ওই পুজোয় বিজেপির নেতাদের নিয়েই পুজো মণ্ডপে হইচই চলছে।
উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের বয়রা কালীবাড়ি, ইটাহার-সহ জেলার একাধিক পুজোর দায়িত্বে এ বার বিজেপির স্থানীয় নেতারা। মালদহের ইংরেজবাজার শহরের বিজেপির পুরপ্রতিনিধির ক্লাব বিনায়ক সঙ্ঘেও জমজমাট পুজো আয়োজন হয়েছে।
দিনহাটার ভেটাগুড়িতে গত দশ বছর ধরে গণেশ পুজো করে আসছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তবে এ বারের আয়োজন টেক্কা দিচ্ছে সাম্প্রতিক আয়োজনকে। সাত দিন ধরে নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পুজো উৎসব পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। মুম্বইয়ের তারকা গায়ক-গায়িকারা আসছেন। ভেটাগুড়ি গণপতি উৎসব কমিটির আহ্বায়ক রতন বর্মণ বলেন, ‘‘এ বারে উত্তরবঙ্গের সব থেকে বড় গণেশ পুজো করব আমরা৷’’ অন্য দিকে, কোচবিহারে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ের গণেশ পুজোয় এ বার আয়োজনের জৌলুস নেই। পার্থপ্রতিম বলেন, ‘‘নানা কারণে এ বার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। পুজো হবে নিয়ম মেনেই।’’ মারুগঞ্জে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের ঘনিষ্ঠ নেতা রাজেশ তন্ত্রীর পুজোও এ বার বহরে ছোট হয়েছে।