বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও পাচারকারীদের হাত থেকে স্কুলছাত্রীদের রক্ষা করতে বিশেষ পদক্ষেপ মালদহ জেলা প্রশাসনের। জেলার সমস্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (মাধ্যমিক) তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির এমন সব ছাত্রীদের চিহ্নিত করতে, যারা টানা সাত দিন বা তার বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। প্রতিটিবিদ্যালয়কে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছাত্রীর নাম, শ্রেণি, অভিভাবকের নাম এবং যোগাযোগের নম্বর উল্লেখ করে নির্দিষ্ট ফর্ম ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (মাধ্যমিক) দফতরে। সেই তথ্য জেলাপ্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্যস্তরে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে শিশুপাচার প্রতিরোধে প্রতিটি স্কুলে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার আড়ালে পাচার, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম বা অন্য কোনও সামাজিক সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই দ্রুত অনুপস্থিত ছাত্রীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এবং প্রয়োজনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।এ ছাড়া, বিদ্যালয়গুলিকে প্রতি মাসে গৃহীত পদক্ষেপের ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের দফতরে জমা দিতে হবে। প্রতি মাসের সাত তারিখের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা পড়লে জেলাস্তরে তা সংকলন করে ১০ তারিখের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেপাঠানো হবে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) মৃন্ময় রায় বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসনের তরফে আমাদের একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের বেশি অনুপস্থিত ছাত্রীদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা জোরদার করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। জেলার সব বিদ্যালয়কে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’