স্বামীর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন। তিন সপ্তাহের চিকিৎসা, হাসপাতাল ও আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার পর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বাংলাদেশের এক মহিলা। স্বামীর দেহ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছেন তিনি। ঘটনাটি করণদিঘির টুঙ্গিদিঘি এলাকায়।
পরিবার সূত্রে খবর, বাংলাদেশের বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা অলকা রানি ৫ অগস্ট স্বামী শ্যামলচন্দ্র মহন্তকে (৪৯) নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে আসেন। কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন শ্যামল। প্রথমে কলকাতায় চিকিৎসা চললেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শিলিগুড়ির বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। সেখানে কিডনির সমস্যার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হাড় ও চোখের একাধিক জটিলতার চিকিৎসা চলে। এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। এর পর স্বামী-স্ত্রী উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির টুঙ্গিদিঘিতে অলকার বোনের বাড়িতে ওঠেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্যামল। রাত প্রায় ১টা নাগাদ তাঁকে করণদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন অলকা রানি। অলকার দাবি, চিকিৎসার জন্য সঙ্গে আনা সমস্ত অর্থ প্রায় শেষ। বাংলাদেশে তাঁদের দুই ছোট সন্তান রয়েছে। স্বামীর দেহ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “সাহায্য পেলে স্বামীর দেহ দেশে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করতে চাই। তা না হলে বাধ্য হয়ে এ দেশেই শেষকৃত্য করতে হবে।”
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে সাহায্যের বিষয়টি দেখা হবে।