সরকারি কাজে ‘অবাঞ্ছিত’ হস্তক্ষেপ দলের পছন্দ নয়। বিশেষত, কোনও সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যেন কোনও নেতা বা জনপ্রতিনিধি যুক্ত না হন, এমনই বার্তা দিল বিজেপি। ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযানে’ উত্তরবঙ্গের মালদহ থেকে কোচবিহার পর্যন্ত সব জেলায় শিবির হয়েছে। সূত্রের দাবি, শিবিরে নেতা-কর্মীদের ওই বার্তা দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে খবর, অযথা সরকারি অফিসে না যাওয়া। সরকারি অফিসে দলীয় ভাবে যেতে হলে নেতৃত্বের অনুমোদন নিতে হবে। পঞ্চায়েত থেকে জেলাশাসকের দফতরে দৈনন্দিন যে সরকারি কাজের দরপত্র আহ্বান বা টেন্ডার প্রক্রিয়া হচ্ছে তাতে যেন জনপ্রতিনিধি বা দলের পদাধিকারীরা ‘নাক না গলান’। প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিতে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারী এবং জনপ্রতিনিধিদের উপরে তাঁদের নজর রয়েছে। কে, কোথায়, কী করছেন তা দলের অন্দরে ধাপে ধাপে জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বিচ্যুতি হলে, শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, দল রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পরে বিভিন্ন স্তরের নেতা-নেত্রীর কাজকর্ম এবং আচার-আচরণে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) পরিবারও ক্ষুব্ধ। সে ইঙ্গিতও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার প্রশিক্ষণ শিবিরে জানানো হয়েছে। সঙ্ঘ সূত্রেরও বক্তব্য, এমন অভিযোগ অনভিপ্রেত। দলের বার্তা যে নিছক কথার কথা নয়, তা বোঝাতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় ২৫০ জন নেতা-কর্মীকে দল থেকে সাসপেন্ড অথবা শো-কজ় করা হয়েছে বলে প্রশিক্ষণ শিবিরে জেলা স্তরের নেতাদের জানিয়েছে বিজেপি। জানানো হয়েছে, আরও ১০০ নেতার বিরুদ্ধে শাস্তি-প্রক্রিয়া চলছে। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, “ভোট গণনার পরে অনেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই হয়তো বিজেপির নীতি-আদর্শ সম্পর্কে জেনে উঠতে পারেননি। তাঁদের সজাগ করতে হত।” তিনি আরও বলেছেন, ‘‘শাসক দল হওয়ার পরে বিজেপির জনপ্রতিনিধি ও সব স্তরের নেতাদের সেই গণ্ডি মনে রাখতে হবে।’’
এ নিয়ে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিজেপির যে তৃণমূলীকরণ হচ্ছে, কয়েক মাসেই বোঝা যাচ্ছে। রাজ্য স্তর থেকে এক রকম বলা হচ্ছে আর নিচুতলায় তোলাবাজি চলছে।’’ প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘সরকারি প্রক্রিয়া বা যে কোনও ধরনের টেন্ডার যা-ই হোক, বিজেপি যদি মনে করে দলীয় হস্তক্ষেপ হবে না, এটা শমীকবাবুর অলীক স্বপ্ন।’’