E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রেল-হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে উষ্মা

রেল হাসপাতাল সূত্রেরও খবর, রেল হাসপাতালে মোট ১৩জন স্থায়ী চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু রয়েছেন মাত্র তিন জন চিকিৎক। যাঁদের মধ্যে দু’জন দু’টি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। অন্য কোনও বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৪৮

— প্রতীকী চিত্র।

নামেই বিভাগীয় হাসপাতাল। চিকিৎসা পরিষেবায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই বলে অভিযোগ। যার জেরে আলিপুরদুয়ার জংশনের রেলওয়ে ডিভিশনাল হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে উষ্মা বাড়ছে রেলকর্মীদের মধ্যে। সোমবার সাপের কামড়ে এক লোকো পাইলটের জখম হওয়ার ঘটনার পরে ওই হাসপাতালকে ঘিরে সেই ক্ষোভআরও বাড়ছে।

আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল সূত্রের খবর, মৃত্যুর সঙ্গে এখনও পাঞ্জা লড়ছেন সেই লোকো পাইলট প্রদীপকুমার ডুং।

নিজের কোয়ার্টারের সামনে রবিবার রাতে লোকোপাইলট প্রদীপকুমারকে একটি সাপ ছোবল দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জংশনের রেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রেলকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, রেল হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সিরাম বা এভিএস থাকা সত্ত্বেও, তার প্রয়োগ না করেই আধঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়িতে ফেলে রেখে তাঁকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ফলে জেলা হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই প্রদীপের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক হতে শুরু করে। এই মুহূর্তেও জেলা হাসপাতালের সিসিইউতে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন প্রদীপ।

এই ঘটনার পর রেল হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, জংশনে এতবড় একটা রেল হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও, সেখানে যাওয়া রোগীদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্থানান্তর করা হয়। অনেক সময় ওষুধ মেলে না। অথচ, বছরের পর বছর ধরে এমন ঘটনা ঘটে চললেও, এ নিয়ে কারও কোনও মাথা ব্যথা নেই।

রেল হাসপাতাল সূত্রেরও খবর, রেল হাসপাতালে মোট ১৩জন স্থায়ী চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু রয়েছেন মাত্র তিন জন চিকিৎক। যাঁদের মধ্যে দু’জন দু’টি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। অন্য কোনও বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। কয়েকজন অস্থায়ী চিকিৎসক থাকলেও, তাঁদের ডিউটির সময় সীমিত। ফলে সেই সময়ের বাইরে তাঁদের পাওয়া যায় না। হাসপাতালে ভেন্টিলেশনের সুবিধাও নেই। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্তরে শিলিগুড়ির বেশ কয়েকটি ও কোচবিহারের একটি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছে এই হাসপাতাল। যাতে করে যে পরিষেবাগুলি রেল হাসপাতালে দেওয়া সম্ভব নয়, সেই পরিষেবাগুলি রোগীরা সেখানে গিয়ে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তার খরচ রেলের তরফেই বহন করা হয় বলেও হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে। আলিপুরদুয়ার রেল হাসপাতালের এসিএমএস জীবেশ সরকার অবশ্য জানান, ‘‘সীমিত পরিকাঠামো ও চিকিৎসককে সঙ্গে নিয়ে রেল হাসপাতালে সর্বোচ্চ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।’’

কিন্তু এভিএস মজুদ থাকা সত্ত্বেও, সাপে কাটা লোকো পাইলকে তা দিয়েই কেন জেলা হাসপাতালে রেফার করা তা নিয়ে এখনও উঠছে প্রশ্ন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Alipurduar Hospital Alipurduar Medical Negligence poor infrastructure

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy