পুরসভা নির্বাচনের আগে সংগঠন গোছাতে মাঠে নেমে পড়ল কংগ্রেস। ধূপগুড়ি পুরসভা এলাকায় নতুন করে ওয়ার্ড বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণের তালিকা প্রকাশের পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ বার পুরনো সংগঠনকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি নতুন কর্মী-সমর্থকদের দলে যুক্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে কংগ্রেস। সে ক্ষেত্রে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের জন্য দরজা খুলেছে তারা। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কোনও তৃণমূল নেতা বা কর্মীদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে কংগ্রেস। তবে দুর্নীতিগ্রস্তদের দলে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কংগ্রেসের নেতারা।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী পুরসভা নির্বাচনে একক ভাবে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রার্থীর নামও চূড়ান্ত। বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় না থাকা তৃণমূলের কর্মী ও নেতৃত্বের একাংশকে দলে টানার পরিকল্পনা নিয়েছে কংগ্রেস। তবে কোনও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বা কর্মীকে দলে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তারা।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে রবিবার ধূপগুড়ি শহরের থানা রোডে অবস্থিত কংগ্রেসের কার্যালয়ে একটি সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার, ধূপগুড়ি টাউন ব্লক কংগ্রেস সভাপতি বাবু পাল, বিগত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হরিশচন্দ্র রায়-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কর্মীরা। বৈঠকে আগামী পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন মজবুত করা, বুথস্তরে কর্মীদের সক্রিয় করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের কর্মসূচি তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পুরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না-হলেও ইতিমধ্যে পুর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বুথভিত্তিক সাংগঠনিক প্রচার শুরু হয়েছে বলে কংগ্রেসের দাবি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তৃণমূলের যে সব কর্মী বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন বা সংগঠনে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছেন না, তাঁরা চাইলে কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে। তবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতা বা কর্মীকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপস করা হবে না বলে বৈঠকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নির্মল ঘোষ দস্তিদার বলেন, “ভাল ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তৃণমূল কর্মী-নেতাদের দলে স্বাগত জানানো হবে। তবে দুর্নীতিগ্রস্তদের জায়গা নেই। আগামী পুরসভা নির্বাচনে লড়াই করার জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। আমরা আশাবাদী, বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পুরসভা নির্বাচনে তাঁরা সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।”
নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস ও সংরক্ষণের পরে এ বার পুরভোটের প্রস্তুতিতে কংগ্রেস কতটা সংগঠন গড়ে তুলতে পারে, সেটাই এখন দেখার।