শিল্প-সম্ভাবনা বাড়াতে মালদহ ফুড পার্কের পরিকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা মেটানো ও জাতীয় সড়কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে উদ্যোগী জেলা প্রশাসন। ফুড পার্কে নিকাশি-সহ একাধিক সমস্যা খতিয়ে দেখা, ফাঁকা পড়ে থাকা ১০টি প্লট ও দু’টি শেড নতুন উদ্যোগপতিদের মধ্যে বণ্টনে উদ্যোগী হতে বুধবার এলাকা পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) ভাস্কর মজুমদার-সহ জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, উদ্যানপালন ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকেরা।
মালদহ শহর সংলগ্ন কৃষি ফার্ম এলাকায় ফুড পার্কটি গড়ে উঠেছিল ২০০৫ সালে। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা ফুড পার্কে জমি ছিল ৩৮.১২ একর। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাস তৈরির সময় ১.১৭ একর জমি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করেন। শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য ৩৫টি প্লট ও চারটি শেড তৈরি করা হয়। এর মধ্যে কারখানার জন্য ২৫টি প্লট কয়েক বছর আগে বিলি করা হলেও ১০টি প্লট ও চারটি শেডের মধ্যে দু’টি এখনও ফাঁকা। ওই প্লটগুলিতে কারখানা গড়তে চেয়ে এক দশক আগে একাধিক শিল্পোদ্যোগী আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত সেগুলি বিলি করা হয়নি। আরও জানা গিয়েছে, যে ২৫টি প্লট বিলি করা হয়েছিল মধ্যে পাঁচ-ছটি প্লট নিয়েও কোনও কারখানা গড়ে তোলা হয়নি। যে সমস্ত কারখানা এখন সেখানে রয়েছে সেই শিল্পোদ্যোগীদের দাবি, এই ফুড পার্কে নিকাশির ব্যবস্থা নেই। বর্ষায় এলাকায় জল জমে। ফুড পার্কের ভিতরের রাস্তাগুলি বেহাল, পাশাপাশি পথবাতি নেই। এ ছাড়া পাশ দিয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাস চলে গেলেও বাইপাসের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তা না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।
এ দিন ফুডপার্কের পরিকাঠামো ও জাতীয় সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তার প্রস্তাবিত এলাকায় ঘোরেন অতিরিক্ত জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা। ভাস্কর মজুমদার এই দিন বলেন, “ফুড পার্কের সঙ্গে জাতীয় সড়কের সংযোগকারী রাস্তা থেকে শুরু করে নিকাশি, আলো-সহ পরিকাঠামোর সমস্যা দ্রুত মেটানোর পরিকল্পনা হয়েছে।” উদ্যানপালন দফতর সূত্রে খবর, প্লট বিলির জন্য আবেদনকারী ১৬ শিল্পদ্যোগীকে কাল, ৩০ অক্টোবর কলকাতার দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছে।