সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম। মঙ্গলবার দুপুরে দলীয় কর্মসূচিতে কোচবিহারের শীতলকুচিতে যান তিনি। সেখানেই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিমবর্ষণ হয় বলে অভিযোগ। গাড়িতে সে সময় সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিনাক্ষীর সঙ্গে ছিলেন দলের প্রাক্তন সাংসদ অলকেশ দাসও।
শীতলকুচিতে দু’দিন আগে মৃত্যু হয় সিপিএম কর্মী মন্টু মিয়ার। সিপিএমের দাবি, তিনি খুন হয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে পরিবার। কিন্তু পুলিশ শুরুতে অভিযোগ গ্রহণ করছিল না। অনেক পরে অভিযোগ গ্রহণ করা হয় বলে দাবি সিপিএমের। অন্য দিকে শীতলকুচির এক বাসিন্দা মুম্বইয়ে কাজ করতে গিয়ে নিহত হন। সেই পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ ফিরিয়ে আনতেও যথাযথ পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে দাবি বামেদের। মিনাক্ষী জানান, এই দুই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও কর্মসূচি রয়েছে তাঁদের। তার আগে শীতলকুচিতে তাঁর গাড়ির উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ তোলেন বাম নেত্রী।
মঙ্গলবার সকালে মন্টুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মিনাক্ষীরা। পরে সেখান থেকে শীতলকুচি বাজারের ভিতর দিয়ে ফিরছিল মিনাক্ষীর গাড়ি। ওই সময়েই একদল জনতা তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিমবর্ষণ শুরু করে। সিপিএম নেত্রীর অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরাই এই হামলা চালিয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ডিমবর্ষণের সময়ে গাড়ির ভিতর থেকেই সমাজমাধ্যমে লাইভ ভিডিয়ো সম্প্রচার করেন মিনাক্ষী। তাতে দেখা যাচ্ছে, একের পর এক ডিম ছোড়া হচ্ছে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে। গাড়ির সামনের কাচের উপর এসে পড়ছে সেগুলি। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিনাক্ষী বলেন, “এটা হচ্ছে বিজেপি। আগে অ্যারেস্ট হবে, তার পরে… আমার অপরাধ কী! গাড়ি এখানেই দাঁড়াবে। গাড়ি সরবে না। আগে এখানকার পুলিশ অ্যারেস্ট করবে, তার পরে… এখানে যত পুলিশ আছে সব সাসপেন্ড হবে।”
পরে কোচবিহার পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে পৌঁছে যান মিনাক্ষী। লিখিত অভিযোগ জমা দেন পুলিশ সুপারের দফতরে। তার পরে সেখানেই ধর্নায় বসে পড়েন সিপিএম নেত্রী। তাঁর দাবি, লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পরেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, “আমরা প্রাণ নিয়ে, মানসম্মান নিয়ে রাস্তায় চলতে পারব না? এটাকে আইনের শাসন বলে?”
আরও পড়ুন:
যদিও এই হামলার সঙ্গে পদ্ম শিবিরের যোগ নেই বলেই দাবি বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের। গোটা বিষয়টি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ হিসাবেই ব্যাখ্যা করছেন তিনি। অভিজিৎ বলেন, “সিপিএম এখন সব দিকেই বিজেপিকে দেখতে পাচ্ছে। তাই সব কিছুর জন্য বিজেপির ঘাড়েই দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষ যদি ডিম ছুড়ে থাকে তার দায়ভার তো বিজেপি নেবে না। কারণ, বিজেপির কোনও কর্মী তাঁকে ডিম ছুড়তে যাবে না।”