E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বেড়া গলে ঢোকা হাতির হামলায় শিশু-সহ মৃত ৩

জলদাপাড়ার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে অকেজো বিদ্যুৎ-বেড়ার ফাঁক গলে শুক্রবার ফালাকাটার কুঞ্জনগরে ঢোকে সাত-আটটি হাতির দল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৫ ০৮:১৯
হাতির হানায় তিন জনের মৃত্যুর খবরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর। শনিবার ফালাকাটার কুঞ্জনগরে।

হাতির হানায় তিন জনের মৃত্যুর খবরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর। শনিবার ফালাকাটার কুঞ্জনগরে। নিজস্ব চিত্র ।

ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার: লোকালয়ে বন্যপ্রাণী ঢোকা ঠেকাতে জঙ্গল বরাবর প্রায় সাত কিলোমিটার ব্যাটারিচালিত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া তারের বেড়া রয়েছে। তবে অকেজো। সে বেড়া পেরিয়ে ঢুকে পড়া হাতির আক্রমণে শুক্রবার রাতে প্রাণ গেল ৩৫ দিনের শিশুকন্যা-সহ একই পরিবারের তিন জনের। আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার কুঞ্জনগর এলাকার ঘটনা।

বেড়া বেহাল হওয়ার পিছনে বন দফতরের নজরদারির অভাবের অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি, জঙ্গলের ভিতরে বয়ে যাওয়া নদীর বালি-পাথর তোলার অবৈধ কারবারে জড়িতদের দিকেও আঙুল উঠেছে। রাজ্যের বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ হলে, বন দফতর খতিয়ে দেখবে। তবে এ ধরনের ঘটনা (মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত) রুখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’’

জলদাপাড়ার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে অকেজো বিদ্যুৎ-বেড়ার ফাঁক গলে শুক্রবার ফালাকাটার কুঞ্জনগরে ঢোকে সাত-আটটি হাতির দল। গভীর রাতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে একটি দাঁতালের আক্রমণের মুখে পড়েন সিংহপাড়ার বাসিন্দা মনোজিৎ দাস (৩০)। তাঁর চিৎকার শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন মা মাখনরানি (৬৫)। কোলে ছিল মনোজিতের শিশুকন্যা। পালানোর সময় না দিয়ে হাতিটি আক্রমণ করে তাঁকেও। কোলে থাকা শিশুটি মাটিতে পড়ে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাস্থলেই মাখনরানির মৃত্যু হয়। হাসপাতালে মৃত্যু হয় মনোজিৎ ও তাঁর শিশুকন্যার।

কুঞ্জনগর এলাকায় মাঝেমধ্যেই হাতির দল হানা দিলেও, এর আগে শেষ কবে সিংহপাড়া এলাকায় হাতি ঢুকেছিল, মনে করতে পারেননি এলাকাবাসী। এ দিন বেলার দিকে স্থানীয় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসীর একাংশ। নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মণের অভিযোগ, “ওই এলাকায় পুরানো যে তারের বেড়া ছিল, তার কিছু অংশ ঠিক মতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এবং দুর্যোগে নষ্ট হয়েছে। আবার অনেকটা অংশ বালি মাফিয়ারা নষ্ট করে, সে পথ দিয়ে পাশের বুড়ি তোর্সা বা মরা তোর্সা নদীতে গিয়ে অবৈধ ভাবে বালি-পাথর তুলছে। তাতে লোকালয়ে ঢোকার একটা করিডর পেয়ে গিয়েছে হাতিরা।” ঘটনায় বন দফতরের বিরুদ্ধে নজরদারিতে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা অনন্ত রায়।

বিজেপির অভিযোগ প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক
আর বিমলা জানান, বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তবে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলাশাসক নৃপেন্দ্র সিংহকে একাধিক বার ফোন করা হলেও, তিনি ধরেননি। জবাব মেলেনি মোবাইল-বার্তার। জেলা প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, অভিযোগ ঠিক নয়। জলদাপাড়ার ডিএফও-র অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের (পশ্চিম) ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর হরিকৃষ্ণণ পি জে জানান, নষ্ট হওয়া তারের বেড়া দ্রুত মেরামতের চেষ্টা হচ্ছে। বন দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতেই জলদাপাড়ার জঙ্গলে ফেরানো হয়েছে হাতির দলটিকে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
elephant attack

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy