আমের জেলা হিসেবে পরিচিত মালদহে এ বার মিলেট প্রজাতির শস্য রাগি বা মারুয়া চাষ শুরু হয়েছে। পরীক্ষামূলক ভাবে মালদহের সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট ফর সাব ট্রপিক্যাল হর্টিকালচার (সিআইএসএইচ)-এর অন্তর্গত কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে ওই চাষ শুরু করা হয়েছে। ধান, পাট, আম, লিচুর মতো প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই শস্যের চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে। চাষ সফল হলে তা জেলার নানা জায়গায় তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগি অত্যন্ত পুষ্টিকর শস্য। প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফাইবার এবং নানা খনিজ উপাদান রয়েছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হাড় মজবুত রাখা এবং পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে এর চাহিদা বাড়ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মিলেট প্রচার কর্মসূচির ফলে বাজারেও এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টি ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে প্রচলিত বহু ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সেই তুলনায় রাগি তুলনামূলক ভাবে খরা সহনশীল ও এর উৎপাদন ব্যয়ও কম। কম জল, কম খরচ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভাল ফলন হয়।
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের ফার্মে পরীক্ষামূলক ভাবে এক একরে রাগি চাষ করা হয়েছে। চাষ সফল হলে মিলেট চাষের পরিধি বাড়ানো হবে। হবিবপুর, বামনগোলা, পুরাতন মালদহ ও গাজলের মতো উঁচু এলাকায় এই রাগি চাষ ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান দুষ্যন্তকুমার রাঘব বলেন, “আমের জন্য খ্যাত এই জেলার কৃষি ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করতে রাগি চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। রাগির দামও ভাল মিলবে। ফার্মে পরীক্ষামূলক ভাবে রাগি চাষ করা হচ্ছে। তিন-থেকে চার মাসে ফলন মিলবে। ফলন ভাল হলে পরবর্তীতে এই চাষ জেলায় ছড়িয়ে দিতে পারব।”