কেউ আয়ার কাজ করেন, কেউ শ্রমিক। তাঁদের কেউ বেচছেন ফুচকা, কেউ তেলেভাজা কিংবা মুড়ি-ঘুগনি। পেশা বদলের কারণ কী? চল্লিশোর্ধ্ব তেলেভাজা বিক্রেতা অনিতা চৌধুরী বলেন, “বর্ষায় গঙ্গা এখন ফুলেফেঁপে উঠেছে। ভরা গঙ্গা ও ভাঙন দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ।” এ ছবি মালদহের ইংরেজবাজারের মিল্কির খাসকোল গ্রামের। গঙ্গার ভাঙন দেখতে নদীর পারে ভিড় জমলেও মানুষকে সচেতন করতে প্রচার কিংবা সতর্কতা নেই পুলিশ ও প্রশাসনের।
এ বার মরসুমের শুরু থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে মালদহের রতুয়া, মানিকচক, কালিয়াচক ২, কালিয়াচক ৩ এবং ইংরেজবাজার ব্লকে। নেপালের বিপর্যয়ের পরে গঙ্গার জলস্তর বাড়ছে। ফরাক্কা ব্যারাজ জল ছাড়তে শুরু করেছে। সেচ দফতরের দাবি, চরম বিপদসীমার নীচে থাকলেও জলস্তর বাড়ছে গঙ্গার। ইংরেজবাজার শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মিল্কি পঞ্চায়েতের খাসকোল গ্রামে। শহরের কাছাকাছি হওয়ায় গঙ্গা ভাঙন দেখতে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন খাসকোলে। তাই গঙ্গা পারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে গিয়েছে মেলা। নির্মাণ শ্রমিক স্বপন মণ্ডল এখন মুড়ি-ঘুগনির বিক্রেতা। তিনি বলেন, “ভাঙন দেখতে বহু মানুষ আসছেন। আশপাশে কিছু নেই। তাই দোকান খুলেছি। কেনাবেচা ভালই হচ্ছে।” এই প্রসঙ্গে গ্রামবাসী ভুটু রবিদাস বলেন, “নদীর পার মাঝেমধ্যেই ধসে যাচ্ছে। আর মানুষ নদীর পারে দাঁড়িয়ে ভাঙন দেখছেন, ছবি তুলছেন। অঘটন ঘটে যেতে পারে।” সচেতন করতে পুলিশ মেতায়ন করে মাইকিং করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।