শুধুমাত্র দিন কয়েকের জন্য অতিথি হিসাবে আর নয়। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ভিন্ রাজ্য থেকে আসতে চলা বাঘকে স্থায়ীভাবে রাখার প্রশ্নে তার উপরে নজরদারির জন্য ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিল বন দফতর। বন দফতর সূত্রের খবর, কলকাতা থেকে যে নির্দেশ ইতিমধ্যেই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বন আধিকারিকদের কাছে পৌঁছেও গিয়েছে।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিন্ রাজ্য থেকে বাঘের উপরে নজরদারির জন্য ইতিমধ্যেই তিনটি কুনকি হাতিকে জলদাপাড়া থেকে বক্সায় বদলি করা হয়েছে। এক দিনের বিশ্রাম শেষে যে তিনটি কুনকি এ দিন বক্সায় নিজেদের ডিউটিতেও যোগ দিয়েছে। বন দফতর সূত্রের খবর, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে এই তিন কুনকি অত্যন্ত সাহসী বলে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে এই তিন কুনকিকে দেখে গন্ডারও পিছু হটেছে। ফলে বাঘের উপর নজরদারির ক্ষেত্রে তাদের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও বাঘের উপরে নজরদারি করার অভিজ্ঞতা এই তিন কুনকির একটিরও নেই। তাই, বক্সায় আসতে চলা বাঘের উপর নজরদারির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিরও ব্যবহার করতে চলেছে বন দফতর।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ত্রিস্তরীয় নজরদারি ব্যবস্থায় একটি দল জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করে বাঘের গতিপ্রকৃতির উপরে প্রতি মুহূর্তে নজর রাখবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ অ্যান্টেনারও সাহায্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি, বক্সার জঙ্গলের যতটা সম্ভব এলাকা জুড়ে অত্যাধুনিক ট্রাপ ক্যামেরা বসানো হবে। প্রতি মুহূর্তে সেই ক্যামেরার উপরেও নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি, গভীর জঙ্গলের ভেতরে যে সব জায়গায় ক্যামেরা বসানো সম্ভব নয়, সেখানে নজরদারির দায়িত্ব সামলাবে তিন কুনকি। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, বক্সায় আসা বাঘের নিরাপত্তা ও নজরদারির প্রশ্নে সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে শীতের মরসুমে একাধিক বার বক্সার জঙ্গলে বাঘের দেখা মিলেছিল। কিন্তু সেই বাঘ বক্সায় থাকেনি। এ বার স্থায়ী ভাবে বক্সায় বাঘ যাতে থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছে বন দফতর। প্রসঙ্গত, প্রথমে ২৯জুলাই বক্সায় বাঘ আনা হবে বলে ঠিক হয়েছিল। পরে ঠিক হয়, ২ অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তীতে বক্সায় বাঘ আসবে। সে দিন বক্সায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও থাকবেন বলে জানিয়েছেন বনমন্ত্রী।