বর্ষায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর ফের এক বার জঙ্গল খুলতেই বনাঞ্চলে প্রবেশমূল্য চালু করতে চায় বন দফতর। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের এ নিয়ে বন দফতরের তরফে পাঠানো হল প্রস্তাব। তবে সেই প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রবেশ মূল্যের অর্থ কিছুটা কমানোর আর্জি জানানো হয়েছে বলেও বন দফতর সূত্রের খবর।
গত বছর জানুয়ারি মাসে আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের প্রস্তাবের পরে রাজ্যের বনাঞ্চলে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রবেশমূল্য তুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এর জেরে পর্যটকরাই সব চেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন বলে বন দফতরের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের ওই সিদ্ধান্তের পরে, বিশেষ করে জঙ্গল সাফারির ক্ষেত্রে পর্যটকদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। পাশাপাশি, প্রবেশমূল্য উঠে যাওয়ায় রাজ্যের বেশ কিছু জঙ্গলে বন দফতরের আয়ও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে বন সুরক্ষা বা এলাকা উন্নয়নে যৌথ বন পরিচালন সমিতি কিংবা ইকো ডেভলপমেন্ট কমিটি বা ইডিসি-র আর্থিক সহায়তা প্রদান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, সাম্প্রতিক অতীতে অরণ্য সপ্তাহকে সামনে রেখে ইডিসিগুলো এই আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়ে আসছিল। কিন্তু এ বছর অরণ্য সপ্তাহের সূচনায় তেমন ঘটনা দেখা যায়নি।
বন দফতরের রাজ্য স্তরের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, “দফতরের আয়ের উপরেই একটা শেয়ারের অংশ দিয়ে ইডিসিগুলোকে আর্থিক সহায়তা করার নিয়ম। কিন্তু গত বছর জানুয়ারি মাসের শেষ থেকে তো প্রবেশমূল্যের অভাবে রাজ্যের বেশির ভাগ বনাঞ্চলে আয় বন্ধই হয়ে গিয়েছে। তাই ইডিসি-কে আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও কার্যত আটকে গিয়েছে।”
কিন্তু আগের সরকারের আমল থেকেই বন দফতরের অন্দরেই এই ব্যবস্থার বদলের দাবি উঠতে শুরু করেছিল। বিভিন্ন পর্যটন সংস্থাও এই ব্যবস্থার দাবি তুলেছিল।রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ বলেন, “নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি আমরা নজরে রেখেছি। তাতে কী সমস্যা হচ্ছে, সেগুলোও আমাদের গোচরে রয়েছে। তাই বর্ষার মরসুম শেষ হওয়ার পরে পর্যটকদের জন্য জঙ্গল খুলে গেলে যাতে বনাঞ্চলে প্রবেশমূল্য চালু হয়, সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দফতরের তরফে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে সেই প্রবেশমূল্য কিছুটা কমানো যায় কী না, সেটাও বলা হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী কবে বিষয়টি অনুমোদন করেন, এখন সে দিকে তাকিয়ে বন দফতরের কর্তারাও।