Advertisement
E-Paper

অন্নপূর্ণার জন্য মন্ত্রী শঙ্করের অফিসে ভিড় মহিলাদের! বাড়ছে ক্ষোভ, পরিস্থিতি সামলাতে মোতায়েন পুলিশবাহিনী

শঙ্কর ঘোষ রবিবার কলকাতা চলে এসেছেন। তার আগে সমাজমাধ্যমে তিনি নিজের বিধানসভা এলাকার জন্য একটি বার্তা দেন। প্রসঙ্গ অন্নপূর্ণা যোজনা। তার পরেই ভিড় হিলকার্ট রোডে বিধায়কের অফিসের সামনে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ অগস্ট ২০২৬ ১৭:১৮

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, তাঁদের বাড়ির সামনে স্টিকার সাঁটিয়েছিলেন। আর যাঁরা পাননি, তাঁদের বিধায়ক অফিসে গিয়ে তথ্য জমা দিতে বলেছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তাঁর ওই ঘোষণার পর সোমবার হিলকার্ট রোডের বিধায়ক দফতরের সামনে মহিলাদের বিশাল ভিড়। পরিস্থিতি এমন হয় যে, ভিড় সামলাতে পুলিশবাহিনী মোতায়েন করতে হয়। একের পর এক মহিলা জানাচ্ছেন, ওই ভাতার টাকা তাঁদের কতটা প্রয়োজন! কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে ভাতার আশা ত্যাগ করছেন বলে জানিয়েছেন।

শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর রবিবার কলকাতা চলে গিয়েছেন। তার আগে সমাজমাধ্যমে তিনি নিজের বিধানসভা এলাকার জন্য একটি বার্তা দেন। প্রসঙ্গ অন্নপূর্ণা যোজনা। মন্ত্রীর আবেদন, যাঁরা যোগ্য বলে মনে করছেন, অথচ অন্নপূর্ণার টাকা পাননি, তাঁরা যেন সোমবার দুপুরের মধ্যে তাঁর বিধায়ক দফতরে গিয়ে তথ্য জমা করেন।

শিলিগুড়ি শহরে অন্নপূর্ণার টাকা পেয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার মহিলা। ‘বঞ্চিত’ অনেকে এর আগে শিলিগুড়ি পুরনিগম, মহকুমাশাসকের দফতরে পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বিধায়কের বার্তার পর তাঁদের সকলে ভিড় করেছেন হিলকার্ট রোডে বিধায়ক কার্যালয়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সকাল থেকে শঙ্করের অফিসের সামনে ভিড় জমতে থাকে। বেলা যত বাড়ে ভিড়ও তত বেড়েছে। চড়া রোদকে উপেক্ষা করে রাস্তায় লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন মহিলারা। শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি। ক্রমশ বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হতে থাকে। এমতাবস্থায় পুলিশ গিয়ে হাজির হয়। অন্য দিকে, বিধানসভা কার্যালয়ের কর্মীরা গিয়ে মহিলাদের অন্নপূর্ণা ফর্মের তথ্য খতিয়ে দেখতে বসেন।

ভিড় থেকে এক এক মহিলার অভিযোগ-অনুযোগ এক-এক রকম। কেউ বলছেন, ‘অযোগ্য’দের অনেকে টাকা পেয়েছেন। তাঁরা যোগ্য হয়েও বঞ্চিত। কারও অভিযোগ, ঠিকঠাক তথ্য দিয়েও কোন অজানা কারণে বঞ্চিত হয়েছেন। শম্পা ঘোষ নামে এক মহিলা বলেন, ‘‘অন্নপূর্ণার ফর্ম নিয়ে কোথায় কোথায় না ঘুরতে হল! কখনও এসডিও অফিস গিয়েছি, কখনও কর্পোরেশন। আবার পঞ্চায়েতেও ছুটেছি। কিন্তু সমস্যার সমাধান তো হচ্ছে না!’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এখন বিধায়ক বলছেন, এখানে কাগজ জমা দিতে। তাই আবার লাইনে দাঁড়ালাম৷’’ পূজা সরকার নামে এক মহিলা বলেন, ‘‘যাঁরা অযোগ্য তাঁরা টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। আমার পাড়াতেই কয়েকতলার বাড়ি, গাড়ি থাকা পরিবারের মহিলা অন্নপূর্ণা পেয়েছেন। আমরা গরিব অথচ বঞ্চিত!’’

দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দাঁড়াতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সুচিত্রা প্রামাণিক। তাঁর কথায়, ‘‘আমি অসুস্থ। এই টাকাটা পেলে আমার একটু সুবিধা হয়। কিন্তু লাইনেও দাঁড়াতে পারছি না। আমি আশা ছেড়ে দিচ্ছি।’’ চুমকি সরকার নামে আর এক মহিলার আক্ষেপ, ‘‘অতি লোভে তাঁতি নষ্ট বলে না? সেটাই হল আমাদের সঙ্গে।’’

গুঞ্জন বাড়তে থাকে শঙ্করের বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে। আরও দীর্ঘ হয় অন্নপূর্ণার জন্য লাইন।

Annapurna Yojana Sankar Ghosh BJP MLA BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy