কোটি-কোটি টাকার সরকারি জমি কোথাও দখল হয়েছে, কোথাও আবার বিক্রি হয়েছে। অভিযোগ, নালিশ হলেও তদন্ত হয়নি। জলপাইগুড়ি শহরের বুকে একটি জমি প্রোমোটারের হাতেও চলে গিয়েছে বলে খবর। এই সব জমি বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলের। পরিকল্পনা করে স্কুলের জমি অল্প-অল্প করে দখল হয়েছে বলে অভিযোগ। বন্ধ অথবা প্রায় বন্ধ স্কুলগুলির জানলা-দরজার কাঠ বিক্রি অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। জলপাইগুড়িতে আরও একধাপ এগিয়ে জমি দখল হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই জমি দখলের নেপথ্যে একটি সিন্ডিকেটের উপস্থিতির কথাও শোনা যাচ্ছে। সর্ষের মধ্যেই ভূত থাকার অভিযোগও রয়েছে। দখল সিন্ডিকেটের প্রথম লক্ষ্য বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা ছাত্র শূন্য বিভিন্ন স্কুল। বিশেষত যে স্কুলগুলি শহর বা শহর লাগোয়া ব্যস্ত এলাকায় রয়েছে সেগুলির অনেকাংশে জমি দখল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র কদমতলার আশপাশে থাকা অন্তত তিনটি স্কুলের জমি দখল হয়েছে বলে অভিযোগ। এই স্কুলগুলির জমি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের এক্তিয়ারে রয়েছে। সংসদের কাছে ‘দখলে’র নালিশ গেলেও এতদিন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ।
জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান ধীরাজমোহন ঘোষ বলেন, ‘‘সব প্রাথমিক স্কুলের জমি জেলা বিদ্যালয় সংসদের। কোনও জমি জোর করে অথবা কোনও ভাবে দখল করার প্রচেষ্টা আটকানো হবে।’’
সূত্রের খবর, সরকারি স্কুলের জমির সব নথি সংসদের কাছে থাকতে হবে। সেই নথি মিলিয়ে জমি মাপামাপি হবে নির্দিষ্ট সময়ের অন্তরে। সরকারি স্কুলের জমি কেউ বিক্রি করতে গেলে জমির রেকর্ডে ধরা পড়ার কথা। কিন্তু সংসদের কাছে আদৌও জমির রেকর্ড আছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে। সংসদের নথি ভান্ডার থেকে ইচ্ছে করে কিছু স্কুলের জমির কাগজ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জলপাইগুড়ির একটি বন্ধ প্রাথমিক স্কুলের জমিতে প্রোমোটারের বাড়ির নকশা পর্যন্ত অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে বলে খবর। কয়েকটি স্কুলের জমি দখল করেছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
প্রশাসনের একটি অংশের দাবি, পুরনো রেকর্ড, ছবি দেখে মাপামাপি করে স্কুলের জমির ব্যাঙ্ক তৈরি করলেই জমি দখল করার প্রবণতা আটকানো যাবে। সংসদ কর্তারা মনে করছেন, দখল হয়ে যাওয়া জমিও উদ্ধার করে ফেরানো সম্ভব।