বিশ্বের দরবারে গম্ভীরাকে তুলে ধরতে ‘গম্ভীরা: বিহাইন্ড দ্য মাস্ক’ (মুখোশের আড়ালে গম্ভীরা) নামে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের সিনেমা তৈরি করল জেলা প্রশাসন। নির্দেশনায় জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসক। অভিনয় করেছেন পুরাতন মালদহের বিডিও। প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জেলার গম্ভীরা শিল্পীরা।
আম, রেশমের পাশাপাশি মালদহের সঙ্গে জড়িয়ে সুপ্রাচীন লোক-সংস্কৃতি গম্ভীরার নামও। বিট্রিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমাজকে জাগিয়ে তুলতে গম্ভীরাকে হাতিয়ার করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা, দাবি গম্ভীরা গবেষকদের। তাঁদের দাবি, গম্ভীরা গানের মাধ্যমে শিববন্দনা করা হয়। গম্ভীরা শুধু ধর্মীয় গণ্ডিতে বদ্ধ নয়, সামাজিক বার্তা তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছিল গম্ভীরা। তবে হাই টেক যুগে ধুঁকছে জেলার প্রধান লোক-সংস্কৃতি গম্ভীরা। উৎসাহ হারিয়েছেন শিল্পীরাও। রাজ্যে পালা বদলের পরে জেলা প্রশাসন গম্ভীরাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয়ে ‘মুখোশের আড়ালে গম্ভীরা’ নামে স্বল্প দৈর্ঘ্যের সিনেমা তৈরি করেছে।
প্রশাসনের দাবি, স্বল্প দৈর্ঘ্যের গম্ভীরা সিনেমার নির্দেশনার কাজ করেছেন জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর। গৌড়ে গিয়ে শিল্পীদের সঙ্গে রাতে কাজ করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগও। গম্ভীরা শিল্পী অদ্বৈত বিশ্বাসের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করেছেন পুরাতন মালদহের বিডিও অনীক রায়। তাঁদের অভিনয় ইতিমধ্যে সমাজ মাধ্যমে নজর কেড়েছে। সপ্তর্ষি বলেন, “গম্ভীরা শিল্পীদের ভূমিকা, অবদান স্বল্প দৈর্ঘ্যের সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি এর মাধ্যমে মালদহের গম্ভীরা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে যাবে। জেলাশাসকের উদ্যোগে সিনেমাটি বানানো হয়েছে।” অদ্বৈত বলেন, “প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন প্রজন্মও গম্ভীরার প্রতি আগ্রহী হবে।”