সপ্তাহখানেক আগেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। জল নামতে শুরু করে মালদহের ভূতনির অনেক গ্রাম থেকেই। কিন্তু গঙ্গার জলস্তর বাড়তে আবার ফিরল বন্যার স্মৃতি। মানিকচকের উত্তর চণ্ডীপুর পঞ্চায়েতের প্রায় সাতটি গ্রাম প্লাবিত। শুধু তা-ই নয়, ভূতনির সঙ্গে মানিকচকের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা পুলিনটোলার রাস্তাও।
দিন কয়েক আগেই এই ভূতনির একের পর এক গ্রাম জলের তলায় চলে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতির খানিক উন্নতি হলেও এখনও অনেক জায়গা থেকে পুরোপুরি জল নামেনি। তবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল গ্রামগুলি। তবে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় পুজোর মুখে উদ্বেগ বাড়ছে গ্রামবাসীদের। স্থানীয় বাসিন্দা পুতুল মণ্ডল জানান, এক সপ্তাহ আগেই জল নেমেছিল ভূতনি থেকে। ঘর পরিষ্কার করে সবে ফিরেছিলেন বাড়িতে। কিন্তু ফের গঙ্গা-ফুলহর ফুলেফেঁপে উঠেছে। রাতারাতি প্রায় দেড় ফুট জল বেড়েছে।
পাকা রাস্তার উপর দিয়ে বইছে জল। চারপাশে জলে থৈ-থৈ করছে। বিদ্যুতের খুঁটি, গাছের গোড়া সবই জলের তলায়। পুলিনটোলার রাস্তাও ডুবে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হতেই আবার ওই এলাকায় শুরু হয়েছে সরকারি নৌকা পরিষেবা। যদিও পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা সারাফত আলির অভিযোগ, সরকারি নৌকা মালপত্র নিতে চাইছে না। সেই সুযোগ নিয়ে দাম হাঁকাচ্ছে বেসরকারি নৌকাগুলি। বস্তাপিছু ৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৮ অক্টোবর রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মালদহে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হেলিকপ্টারে আকাশ পথে ভূতনি-সহ বৈষ্ণবনগর, রতুয়া-১ ব্লকের বিস্তৃর্ণ এলাকার বন্যা পরিস্থিতি দেখবেন। পরে মানিকচক বিএসএস বিদ্যালয়ে আর্থিকসাহায্য-সহ ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেবেন বন্যাদুর্গতদের হাতে।