কয়েক দিন ধরে মন কষাকষি চলছিল প্রেমিক-প্রেমিকার। দিন তিনেক আগে প্রেমিকা মুখের উপর বলে দেন, আর সম্পর্ক রাখতে চান না। তার পর বার কয়েক ফোন করেছেন প্রেমিক। সাড়া পাননি। রাগের চোটে বাড়িতে আগুন লাগালেন যুবক। দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার প্রেমিকার বাবা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের সুকান্তপল্লি এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে আলিপুরদুয়ার শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সুকান্তপল্লিতে একচি বাড়িতে আগুন লাগে। প্রতিবেশীরা আগুন নেবানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে দমকলবাহিনী যায় ঘটনাস্থলে। বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বাড়ির ভিতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে কর্তাকে। তিনি মত্ত অবস্থায় ছিলেন বলে কারও কারও দাবি। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় নরেশ ঘোষ নামে ওই প্রৌঢ়কে।
অন্য দিকে, বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের জন্য নরেশের মেয়ে মঞ্জু ঘোষ দুষেছেন অনিল সরকার নামে এক যুবককে। তাঁর দাবি, নিজের চোখে দেখেছেন অনিল তাঁদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালাচ্ছেন। তার আগে তাঁর বাবাকে মদ খাইয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন ওই যুবক। কেন এই কাজ করলেন সেই যুবক?
আরও পড়ুন:
শনিবার মঞ্জু জানান, অনিলের সঙ্গে তাঁর প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তিনি আর সম্পর্কে থাকতে চাননি। সেই রোষে ওই কাজ করেছেন অনিল। মঞ্জুর কথায়, ‘‘আমায় বার কয়েক ফোন করেছিল। আমি ফোন বন্ধ করে দেওয়ায় আমার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। দুপুরে আমি বাড়িতে ছিলাম না। তখন বাবার সঙ্গে বসে মদ খেয়েছে। তার পর ওই কাজ করেছে। আমি বাড়ি ফেরার সময় ওকে দেখে প্রতিবেশীর বাড়িতে লুকিয়ে ছিলাম। না হলে আমায় মেরে দিত।’’ মঞ্জু জানান, তাঁর ৬৫ বছরের বাবার শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। প্রাক্তন প্রেমিকের শাস্তি চান তিনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই যুবককে ধরে মারধর করেছেন কয়েক জন।
মঞ্জুর অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করতে পারেনি পুলিশ। তারা তদন্ত শুরু করেছে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে শনিবার দুপুরে চাঞ্চল্য ছড়ায় আলিপুরদুয়ার শহরের সুকান্তপল্লি এলাকায়।