গত ৫০ বছরে নিজের গতিপথ থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার সরে এসেছে গঙ্গা। মালদহে এখন গঙ্গা আর ফুলহার নদীর দূরত্ব মেরেকেটে ৭৫০মিটার। এমন চললে আগামী ছ’-সাত বছরের মধ্যে গঙ্গা ও ফুলহার নদী মিশে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে মালদহ জেলা। শহরে জল ঢুকে যেতে পারে। রবিবার ভূতনির চর থেকে রতুয়ার বিস্তীর্ণ অংশ পরিদর্শন শেষে এমনই জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল। কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে দ্রুত বৈঠক হবে বলে জানিয়ে গেলেন তিনি।
বিগত কয়েক বছরের মতো এ বারও বন্যা হয়েছে মালদহে। গঙ্গার ভাঙনে চাষের জমি থেকে স্কুল ধসে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, মালদহের অস্তিত্ব শুধু গঙ্গার জন্য নয়, ফুলহারের ভাঙনের জন্যও বিপন্ন হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গঙ্গার ভাঙন থেকে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়াকে রক্ষা করার কাজ চলছে। ভাঙন রোধের স্থায়ী সমাধান কী ভাবে করা যাবে, সে নিয়ে ডিপিআর (বিশদ প্রকল্প প্রতিবেদন) তৈরির জন্য দুর্গত এলাকাগুলোয় গিয়েছে আইআইটি কানপুরের প্রতিনিধি দল৷ শনিবার রাজ্য সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছে। রবিবার পরিস্থিতি দেখতে আকাশপথে ওই এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন মুখ্যসচিব।
মনোজ জানান, শুধু গঙ্গা নয়, ফুলহর ও কোশি নদীর পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘‘এ ভাবে চললে আর সাড়ে সাতশো মিটার দূরত্ব ছয়-সাত বছরের মধ্যে গঙ্গায় মিশে যাবে। মালদহ শহরে জল ঢুকে যাবে। রতুয়ায় জলে ঢুকে যাবে। রেললাইন থেকে হাইওয়ে সব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’ সমাধানে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে? তাঁর কথায়, “আমি একা তো এই সমস্যার সমাধান করতে পারব না। আমরা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছি। অর্থের কোনও সমস্যা নেই। ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের সঙ্গে সমন্বয় করে সকলের সম্মতিতে ভাঙন রোধের কাজ করা সম্ভব।” মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, আগামিদিনে এ বিষয়ে দিল্লিতে একটি বৈঠক রয়েছে। বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
প্রতি বছরই গঙ্গার ভাঙনে মালদহের মানিকচকের ভুতনি, ইংরেজবাজার, রতুয়া এবং কালিয়াচক-৩ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীগর্ভে বিলীন হয় বসতভিটে থেকে চাষের জমি। এ বছরই বন্যা এবং নদীভাঙনের জেরে বিপর্যস্ত হয়েছেন বহু মানুষ। গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন এবং ফুলহারের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রবিবারই মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে উঠে এসেছে মালদহের ভুতনি এবং রতুয়ার বন্যার কথা।