জনগণনার কাজে ব্যস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তার জেরে জলপাইগুড়ির একাধিক প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতিও কমছে। সেই ঘাটতি দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনের মিড-ডে মিলের হিসাবেও। অনুপস্থিতির প্রবণতা বেশি গ্রামীণ এবং চা বলয়ের স্কুলগুলিতে। এই এলাকাগুলিতেই পড়ুয়াদের স্কুলছুট হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। সেই কারণে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে শিক্ষা প্রশাসনেও।
জনগণনার কাজে শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলার বহু প্রাথমিক স্কুলে একাধিক শিক্ষককে জনগণনার কাজে নেওয়া হয়েছে। কোনও-কোনও স্কুলে এক বা দুই জন মাত্র শিক্ষক রয়েছেন। যে স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা যত কম, সেখানে তত বেশি সমস্যা বলে দাবি। বহু স্কুলে একই ক্লাসঘরে দুই-তিনটি শ্রেণির পঠনপাঠন চলছে। সেই আবহেই পড়ুয়াদের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে দাবি।
জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া ধাপগঞ্জের একটি স্কুলে প্রতিদিন অন্তত ২০ শতাংশ করে পড়ুয়া কমেছে। মণ্ডলঘাটের একটি স্কুলে উপস্থিত থাকছে হাতেগোনা। ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ির বহু স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে। ক্লাস না হওয়াতেই পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠানো হচ্ছে না বলে দাবি একাংশ শিক্ষকের। বিশেষত মালবাজার, বানারহাটের চা বলয়ে স্কুল পড়ুয়াদের নানা কাজও করতে হয়। ক্লাস অনিয়মিত হচ্ছে বলে অনেক অভিভাবক পড়ুয়াদের স্কুলে না পাঠিয়ে অন্য কাজে পাঠাচ্ছেন বলে দাবি শিক্ষকদের একাংশের।
জলপাইগুড়ির জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, “স্কুলগুলিকে বলা হয়েছে, শিক্ষকদের সমস্যা হলে স্কুলের সময় এগিয়ে সকালে নিয়ে যেতে। তেমন করা হলে সমস্যা মিটতে পারে। খোঁজ নিচ্ছি।” সূত্রের খবর, স্কুলগুলির সময় এগোনো হয়েছে কি না, তা নিয়ে রিপোর্ট চাইতে পারে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ।