নতুন সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে তোলাবাজি ‘অসুখে’ দলের একাংশ যে ‘অসুস্থ’, সে কথা বিজেপির শীর্ষ নেতা থেকে মন্ত্রীর বয়ানে উঠে এসেছে। শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পালেরা হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তবে আর এক মন্ত্রী অর্জুন সিংহের মত, সাবধান করে হবে না, সোজা ব্যবস্থা নিতে হবে।
এখন উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন রাজ্যের শ্রম এবং পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন। মঙ্গলবার দার্জিলিঙের বিভিন্ন চা-বাগান পরিদর্শন করেন তিনি। গিয়েছিলেন শ্রম ভবনেও। তার মাঝেই দলীয় নেতা এবং কর্মীদের তোলাবাজি ইস্যুতে সাবধান করেছেন অর্জুন। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘উষ্মা প্রকাশ করে কোনও লাভ নেই৷ এদের (তোলাবাজিতে অভিযুক্ত) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যাঁরা (তোলাবাজি) করছেন, তাঁরা দলের ক্ষতি করছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ বা যাঁরা এই ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।’’
সম্প্রতি বিজেপি কর্মীর পরিচয় দিয়ে তোলাবাজি করার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয় (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। তাতে দেখা যায় বালিভর্তি লরি থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন স্বঘোষিত এক ‘বিজেপি নেতা’। লরিচালকই সেই ভিডিয়ো তুলেছিলেন।
এর মাঝে গত শনিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক বলেছেন, সময় ১৫ দিন। তার মধ্যে সকলে শুধরে না গেলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস! মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের স্বীকারোক্তি, তোলাবাজির ‘মধু’ তাঁর দলের কতিপয় নেতাকেও আচ্ছন্ন করেছে। তাঁর কথায়, ‘‘তোলাবাজি সংস্কৃতি তো এত সহজে উঠে যাবে না। তবে পার্টি নজর রেখেছে। বিজেপির কেউ তোলাবাজি করলে পুলিশ আর দলকে জানান। সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর অধিকার আছে। ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আমরা সাসপেন্ড করেছি। প্রক্রিয়া চলছে।’’ অগ্নিমিত্রাও একই কথা বলেছেন সোমবার।
এর মধ্যে সোমবারই তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার কোচবিহারের দিনহাটায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। দলেরই নেতাকে অভিযুক্ত করে কাঁচা ডিম ছোড়েন কয়েক জন বিজেপি কর্মী। এই প্রেক্ষিতে দুর্নীতি এবং তোলাবাজি প্রসঙ্গে কড়া সুর শোনা গেল অর্জুনের গলাতেও।