দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি দেখতে বিশেষ বৈঠক করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবারের সেই আলোচনায় উঠে এসেছে আবাস যোজনা থেকে পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা, পানীয় জলের কথা। বর্তমান পরিস্থিতি, সমস্যা কোথায় এবং সমাধানে কী কী করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দিলীপ জানিয়েছেন, স্থানীয় সমস্যা বুঝতে বিডিওদের ডেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় এই রকম ‘রিভিউ মিটিং’ করছেন দিলীপ। রবিবার আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলা নিয়ে বৈঠক করতে পারেন তিনি। শনিবারের আলোচনায় দিলীপের সঙ্গে ছিলেন পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের সচিব থেকে বিভিন্ন আধিকারিক। বৈঠক শেষে দিলীপ বলেন, ‘‘সরকার এ বার গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য বড় বাজেট বরাদ্দ করেছে। তবে কর্মীসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণেও বিভিন্ন এলাকায় কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এখন প্রতিটি ব্লকের বিডিওর সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী দু’-এক দিনের মধ্যে পঞ্চায়েতভিত্তিক এলাকাগুলিতে উন্নয়নমূলক কাজের পারফরম্যান্স আরও বাড়বে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশেষ করে ডুয়ার্স এবং পাহাড়ের গরিব মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের লক্ষ্যে যে প্রকল্পগুলি চলছে, তার সুফল যাতে তাঁদের কাছে পৌঁছোয়, সেই লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে।’’
পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে বৈঠকে। মন্ত্রী বলেন, ‘‘এ বার প্রায় ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিটের ব্যবস্থা করা হবে। পাহাড়ের জিটিএতেও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজ শুরু করেছেন। কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। সেই সমস্যাও দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।’’
পাশাপাশি, বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েত সভাপতি বা সদস্য না থাকায় উন্নয়নমূলক কাজে যে দেরি হচ্ছে বলে মেনে নেন তিনি। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘মানুষের উন্নয়ন কোনও ভাবেই আটকে থাকবে না। পাহাড়ের ক্ষেত্রে জিটিএর নতুন চেয়ারম্যানকে পঞ্চায়েত এলাকাগুলির সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার একটি খসড়া তালিকা তৈরি করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। আগামিদিনে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কর্মী নিয়োগেও উদ্যোগী হওয়া হবে।’’