মালদহ জেলায় পরীক্ষামূলক ভাবে শুরু হয়েছে সুগন্ধি ধানের চাষ। বৃহস্পতিবার পুরাতন মালদহের মুচিয়ার চর লক্ষ্মীপুরে সেই চাষের জমি পরিদর্শন করেন রাজ্যের কৃষি ও উদ্যানপালন প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু। পাশাপাশি, ড্রাগন ফল ও মাল্টা চাষ, ড্রোনে কৃষিজমিতে স্প্রে এবং আলু বীজ উৎপাদন— কৃষিক্ষেত্রের একাধিক উদ্যোগ ঘুরে দেখেন তিনি। পরে প্রশাসনিক বৈঠকে মালদহ জেলার আম ও কৃষিপণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার উপরে জোর দেন।
জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কৃষিবিকাশ যোজনা এবং আত্মা প্রকল্পে প্রায় ৭৭ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে সুগন্ধি ধানের চাষ হচ্ছে। দফতরের উদ্যোগে গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি ও বাদশাভোগ— এই তিন ধরনের ধান চাষ করছেন জেলার বিভিন্ন ব্লকের প্রায় ৪৫০ জন কৃষক। মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চর লক্ষ্মীপুরে সেই প্রদর্শন ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এর পরে মহিষবাথানিতে ড্রাগন ফল ও মাল্টা চাষ এবং পুরাতন মালদহ ব্লকের কৃষি ফার্মে ড্রোনে ধানজমিতে কী ভাবে কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ ছড়ানো হচ্ছে, তা দেখেন তিনি। আট মাইলে আলু বীজ উৎপাদনের উদ্যোগও পরিদর্শন করেন।
এ দিন ইংরেজবাজার শহর সংলগ্ন ফুড পার্ক ঘুরে শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। নিকাশি, রাস্তা, আলো-সহ পরিকাঠামোর সমস্যার কথা তাঁর কাছে তুলে ধরেন শিল্পোদ্যোগীরা। পরে মালদহ জেলা প্রশাসনিক ভবনে জেলা প্রশাসন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন এবং কৃষি দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, সেই বৈঠকে আমের উৎপাদন, বিপণন ও রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের নেওয়া ‘আমার মালদহ’ উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। মালদহের আমকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিত করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায় সভায়।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘মালদহের কৃষি ও উদ্যানপালনে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত বাজার তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। জেলার নিজস্ব পণ্য শুধু রাজ্য বা দেশের বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছে দিতে হবে। সুগন্ধি ধানের মতো নতুন চাষে কৃষকের আয় ও বাজারজাত করার ব্যবস্থা হবে।’’
জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর বলেন, ‘‘জেলার আম-সহ নিজস্ব পণ্যকে আরও বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা আমরা করছি।’’
মালদহ ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘‘সরকারি সহায়তায় প্যাকেজিং, সংরক্ষণ ও বিপণন পরিকাঠামো আরও উন্নত হলে আম রফতানির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে।’’