হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে বিধানসভা ভোটের আগে প্রার্থীপদ বাতিলের দাবিতে মামলা হয়েছিল। এ বার তৃণমূলের টিকিটে জয়ী বিধায়ক সঙ্গীতা রায়ের তফসিলি জাতি শংসাপত্রের বৈধতা যাচাই করতে তাঁর বাড়িতে নোটিস পাঠাল প্রশাসন। আগামী ২৮ জুলাই কোচবিহারের সিতাই বিডিও অফিসে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রশাসনের পাঠানো ওই নোটিসে বলা হয়েছে, দরকারি নথিপত্র-সহ প্রাথমিক তদন্তে অংশগ্রহণের শেষ দিন ২৮ জুলাই। যদিও বিধায়কের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বস্তুত ভোটের পর মাত্র একবারই তাঁকে এলাকায় দেখা গিয়েছে।
২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার জেলা থেকে সঙ্গীতাই একমাত্র তৃণমূল প্রার্থী, যিনি জয়লাভ করেছেন। তবে ভোটের আগে থেকে তাঁর জাতিগত শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রথমে প্রার্থিপদ বাতিলের দাবিতে মহকুমা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী তথা গ্রেটার নেতা আশুতোষ বর্মা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে প্রশাসন। সেই মর্মে নথিপত্র নিয়ে এখন হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিধায়ক কিংবা তাঁর পরিবারের কাউকে না পেয়ে বাড়ির দেওয়ালে নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে গিয়েছে ব্লক প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
শুধু গ্রেটার নেতা আশুতোষই নন, ২০২৪ সালে সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের সময়েও সঙ্গীতার প্রার্থীপদ বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। মঙ্গলবার ফের আশুতোষ অভিযোগ করেন, ‘‘নিজেকে রাজবংশী সমাজের বলে পরিচয় দেওয়া সঙ্গীতা রায়ের জাতিগত শংসাপত্রটাই জাল। সেই বিষয়টা আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। এখন প্রশাসনের তরফ থেকে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়েছে। এ বার ওঁকে প্রমাণ করতে হবে যে জাতিগত শংসাপত্র আসল।’’ এ নিয়ে সঙ্গীতাকে একাধিক বার ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি।