চার দশকের রীতি মেনে দশমীর সন্ধ্যায় দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়। মরা মহানন্দায় যখন বিসর্জনের প্রস্তুতি চলে, তখন নদীর ওপারে হিন্দুদের পাশাপাশি দেবীকে আলো দেখান মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। আলো দেখিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর পরেই মহানন্দার সতীঘাটে বিসর্জন হয়। মালদহের চাঁচলের পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপের রাজবাড়ির পুজো ঘিরে এই ছবি এ বারও পাল্টায়নি। তবে আগে লন্ঠন জ্বেলে দেবীকে আলো দেখানো হত। এখন আর লণ্ঠন নেই। মোবাইল ফোনের আলো বা টর্চ জ্বেলে আলো দেখানো হয়।
চাঁচল থেকে এক কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুর চণ্ডীমণ্ডপের পুজো চাঁচল রাজবাড়ির পুজো বলে পরিচিত। পুজো করে চাঁচল রাজ অফিসিয়াল ট্রাস্ট। ট্রাস্টি বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহালয়ার ১২ দিন আগে কৃষ্ণা নবমী তিথি থেকে এই পুজো শুরু হয়ে যায়। দশমীর সন্ধ্যায় হয় দেবীর বিসর্জন। রীতিমতো শোভাযাত্রা করে দেবীকে ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। বিসর্জনের আগে দেবীকে আলো দেখান সাওরগাছি এলাকার মানুষ। তাদের মধ্যে থাকেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনও। এখন প্রতি বাড়িতেই বিদ্যুৎ থাকায় লণ্ঠনের ব্যবহার নেই। ফলে, মোবাইল ফোন বা টর্চের আলো জ্বেলে দেবীকে বিদায় জানানো হয়।
প্রবীণেরা জানান, এলাকার মানুষের বিশ্বাস, পাহাড়পুরের দেবী তাঁদের সুরক্ষিত রেখেছেন। সাওরগাছিতে এক সময় মহামারী দেখা দেয়। জনশ্রুতি— দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে বিসর্জনে আলো দেখানোর প্রথা শুরু হয় এবং মহামারী দূর হয়ে যায়।
চাঁচল রাজ অফিসিয়াল ট্রাস্টের সম্পাদক তথা সিদ্ধেশ্বরী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক পার্থ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এখন লণ্ঠনের বদলে মোবাইল ফোন বা টর্চ জ্বেলে আলো দেখানোর পরেই দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়। তাতে যোগ দেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনও। এখানে কয়েকশো বছর ধরে চলে আসা সম্প্রীতির ধারা
আজও অব্যাহত।’’