পুজোর হাতে গোনা দিন। সব মিলিয়ে দিন বারো। তাই কোচবিহার মদনমোহন মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী কাঠামিয়া দুর্গাপুজো ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে। রীতি পরম্পরা মেনে রাজ আমল থেকে চলে আসা ওই পুজো ঘিরে কোচবিহারের মানুষের আবেগ রয়েছে। এখন থেকেই এক চালার দুর্গা প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের খোঁজ নিতে শুরু করেছেন সবাই। পুজোর আয়োজন করে কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড। বোর্ডের সদস্য তথা কোচবিহারের মহকুমাশাসক তথা গোবিন্দ নন্দী বলেন, “এ বারেও প্রাচীন রীতি মেনে কাঠামিয়া দুর্গা পুজোর যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সমস্ত রীতি মেনে পুজো হবে। এ বারে বাজেটও কিছুটা বেড়েছে।”
দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুর্গাপুজো ঠিক কবে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে ঠিক ভাবে কিছু জানা যায় না। গবেষকদের একাংশের অনুমান, শতাব্দী প্রাচীন মদনমোহন মন্দির তৈরির সময়েই সমসাময়িক সময়ে ওই চত্বরে কাঠামিয়া মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। অনেকের ধারণা, পুজোর শুরু থেকেই একই কাঠামো প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও ওই ব্যাপারে স্পষ্ট তথ্য নেই। প্রতিমা তোর্সা নদীতে বিসর্জনের পরে তা তুলে আনা হয়। প্রয়োজনে তা সংস্কার করে সেই কাঠামোতেই দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়। মদনমোহন মন্দিরের পুরোহিত খগপতি মিশ্র জানান, এক চালার হয় প্রতিমা। একটি কাঠামোর মধ্যেই দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, বাঘ, অসুর থাকে। ষষ্ঠীর দিন জোড়া বেল বসিয়ে পুজো শুরু হয়। সপ্তমীর দিন বেলের ডাল কেটে নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। একটি ঘট বসিয়ে পুজো হয়।
দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, গুঞ্জবাড়িতে প্রতিমা তৈরি হয়। ষষ্ঠীর দিন প্রতিমা মন্দিরে আনা হয়। শীঘ্রই কাঠামিয়া মন্দির রং করা শুরু হবে। পুজোর বাজেট লক্ষাধিক টাকা। কোচবিহারের বাসিন্দা বিল্লোল সরকার বলেন, “ওই পুজো আমাদের আবেগ। প্রত্যেক বার পুজো এলেই কাঠামিয়া মন্দির দর্শন করি।”