বৃষ্টিতে নাগর নদীর জল বাড়ায় রায়গঞ্জের জগদীশপুর পঞ্চায়েতের নাওঘাটায় রাস্তার একাংশ জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ভাতুন পঞ্চায়েতের নোনা সেতুর উপর দিয়ে জল যাওয়ায় সে রাস্তাও বেহাল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি মাস খানেক ধরে দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, ইটাহার, করণদিঘি, ইসলামপুর, চোপড়া, গোয়ালপোখর ১ ও ২ ব্লকে গ্রামীণ এলাকার রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। বহু এলাকায় নিকাশি বেহাল হয়ে পড়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও নদীর বাঁধ ভেঙে গিয়েছে, কোথাও নদীবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। পঞ্চায়েত স্তরে সরকারি ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এর অভাবে সংস্কারের কাজ আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে উত্তর দিনাজপুরের ন’টি ব্লকের তৃণমূল পরিচালিত বেশির ভাগ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান, নয়টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও সহকারী সভাপতি ও জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি ও কর্মাধ্যক্ষেরা নিয়মিত কার্যালয়ে আসছেন না। জেলা পরিষদের সভাধিপতি ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে, ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এর অভাবে জেলা জুড়ে বেহাল রাস্তা মেরামত, নিকাশি পরিকাঠামোর উন্নয়ন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নদীবাঁধ মেরামতের মতো কাজ আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির বিরোধী দলনেতা মলয় সরকারের দাবি, ‘‘পূর্ত দফতর নাওঘাটা ও নোনা সেতু এলাকার রাস্তা মেরামত করবে বলে জানিয়েছে।” বাঙালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের মার্জিনা খাতুন বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত জুড়ে রাস্তা ও নিকাশি বেহাল। তৃণমূলের প্রধান ও উপপ্রধান-সহ সঞ্চালকদের অনুপস্থিতির জেরে 'অ্যাকশন প্ল্যান'-এর অভাবে রাস্তা মেরামত ও নিকাশি পরিকাঠামোর কাজ আটকে রয়েছে।’’ জেলা পরিষদে সহকারী সভাধিপতি তৃণমূল নেতা গোলাম রসুল বলেন, ‘‘জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েতগুলিকে সচল করে কাজ শুরু করা হবে।’’