রাজা নেই, নেই রাজ্যও। তবে রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী বড়দেবীর পুজো ঘিরে কোচবিহারের বাসিন্দাদের আবেগে এত টুকু ভাটা পড়েনি। ঐতিহ্যের ওই পুজোয় এ বার বাজেট বাড়াল কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড। দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড সূত্রেই জানা গিয়েছে, এ বারের পুজোয় বরাদ্দ হয়েছে ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩২৬ টাকা। গত বছর ওই বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭০ টাকা। ফলে এ বছরের বাজেট বেড়েছে ৪৮,২৫৬ টাকা।
দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের সভাপতি তথা কোচবিহারের জেলাশাসক জিতিন যাদব বলেন, “প্রাচীন রীতি মেনে বড় দেবীর পুজোর আয়োজনে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বার ওই পুজোর বাজেটও বাড়ানো হয়েছে।”
ইতিহাস গবেষকদের একাংশ জানান, প্রায় পাঁচশো বছরের প্রাচীন ওই পুজোর আয়োজক কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড। দেবীবাড়ি এলাকায় স্থায়ী মন্দিরে পুজো হয়। যে পুজো ঘিরে জড়িয়ে বাসিন্দাদের বাড়তি আবেগ। দেবীদর্শন থেকে পুজোয় অঞ্জলি দিতে ভিড় উপচে পড়ে।
দেবোত্তর বোর্ড সূত্রেই জানা গিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী বড়দেবীর প্রতিমার আকার, সাজসজ্জা প্রচলিত দুর্গা প্রতিমার চেয়ে বেশ খানিকটা আলাদা। বড়দেবী রক্তবর্ণা। দেবীর দু’দিকে থাকে জয়া ও বিজয়ার মূর্তি। দেবীর বাহন বাঘ ও সিংহ দুইই। জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় বড়দেবীর পুজোয় নরবলির রেওয়াজ চালু ছিল।
পরবর্তীতে রাজ আদেশেই নররক্ত দিয়ে পুতুলের প্রতীকি বলির রেওয়াজ চালু হয়। সেই পরম্পরা আজও বদলায়নি। প্রতি বছরের মতো এ বারওপ্রতিপদ তিথিতে পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট মেনে দেবীবাড়ি মন্দিরে বড়দেবীর ঘটস্থাপন পুজোর আয়োজন করা হবে। দ্বিতীয়ায় প্রাচীন রীতি মেনে কোষাকুষীতে রাখা জলে দেবী প্রতিমার প্রতিচ্ছবি দেখবেন দুয়ারবক্সি। যা দেউদেখা বলে পরিচিত। দেউদেখার আগেই ওই দেবী প্রতিমা সোনার অলঙ্কার পরিয়ে সাজানো হবে। হনুমান দণ্ড পুজোর মন্দিরে আনা হবে। দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের এক কর্মী জানান, এ বার ১২ অক্টোবর দেউদেখা। কোচবিহারের বাসিন্দা, চিত্রশিল্পী শ্রীহরি দত্ত বলেন, “বড়দেবী জেলার বাসিন্দাদের কাছে আবেগের এক নাম।’’