সাত দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তা জানাতেই উত্তরবঙ্গের চার জেলায় নদীর পাড় এবং বাঁধ মেরামতিতে নেমে পড়েছে সেচ দফতর। রবিবার থেকে টানা সাতদিন উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে। তারপরেই তিস্তা-তোর্সা থেকে শুরু করে মহানন্দা, কালজানি, সঙ্কোশ একাধিক নদীতে ভাঙন মেরামতির কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। দফতরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘আবহাওয়া দফতরের পুর্বাভাস পাওয়ার পরেই দ্রুত গতিতে কাজ হয়েছে। কারণ একবার বৃষ্টি নেমে গেলে, কাজ বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। সে ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের আশঙ্কা বেড়ে যায়।’’
তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তনের প্রবণতা চলতি বছরেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে দাবি করেছে সেচ দফতর। তিস্তা নদীতে সেবকের পর থেকে ময়নাগুড়ি, মেখলিগঞ্জের একাধিক পাড়ে এবং বাঁধের স্পারে মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। সেচ দফতরের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে বেশ কিছু নদীতে ভাঙন বড় আকার নিয়েছে। সেগুলি সামলানোই প্রাথমিক লক্ষ্য। সেচ দফতরের হিসেবে মরসুমে যা বৃষ্টি হয় তার অর্ধেকের বেশি পরিমাণ ইতিমধ্যেই হয়েছে। এখনও বর্ষা বিদায়ে ঢের দেরি, তার ফলে অতিবৃষ্টি হবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করেছে সেচ দফতর।
তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা— এই তিন নদী নিয়েই দফতরের উদ্বেগ বেশি বলে দাবি। মরসুমের শুরুতেই নদীগুলিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তায় মরিচবাড়ি এলাকায় ভাঙন ক্রমশ উদ্বেগের আকার নেয়। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা ভোটের আচরণবিধি চলতে থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে বরাদ্দ দীর্ঘদিন ধরে মেলেনি। তার জেরেই থমকে যায় বাঁধ মেরামতির কাজ। সেই সঙ্গে চলতি বছরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হওয়ায়, কাজেও দেরি হয়। কোথাও-কোথাও বৃষ্টির কারণে মেরামতির কাজ হয়নি যেমন, তেমই তিস্তায় জলস্তর বেশি থাকায় বৃষ্টি কমলেও নদীর পাড়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি।