বিডিও অফিসের কাছে জলাশয় সংস্কারের কাজ চলছিল। শুক্রবার কচুরিপানা পরিষ্কার করতে নেমেছিলেন ১০ জন শ্রমিক। কাজের মাঝে জলাশয় থেকে উঠে আসেন ৯ জন। আর এক জন কোথায় গেলেন?
প্রথমে বাকি নয় শ্রমিক তাঁর খোঁজ করছিলেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কচুরিপানার ভিতরে কি আটকে গেলেন ওই শ্রমিক? দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। তার পর বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদেরও নামানো হয় জলাশয়ে। পুরো জলাশয় তন্ন তন্ন করেও শ্রমিকের খোঁজ মেলেনি। শেষমেশ পাওয়া গেল শ্রমিককে। জলাশয়ের পাশে বাঁশবাগানে শীতল বাতাসে শান্তিতে ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। তাঁর খোঁজে যে গোটা জলাশয় তোলপাড় করে ফেলেছে প্রশাসন, চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন সহকর্মীরা, এত গোলমাল, চেঁচামেচি— কিছুই কানে ঢোকেনি তাঁর। কোচবিহারের সাহেবগঞ্জের ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সাহেবগঞ্জ বিডিও অফিস সংলগ্ন জলাশয় পরিষ্কার করতে নেমেছিলেন পূর্ব সাহেবগঞ্জ এলাকার শ্রমিকেরা। তাঁদেরই একজন গোবিন্দ বর্মন। শুক্রবার সকাল থেকে কাজ চলছিল। দুপুরে খাবার খেতে অন্যেরা জলাশয় থেকে উঠলেও গোবিন্দকে কেউ উঠতে দেখেননি। সন্দেহ হয় অন্যান্য শ্রমিকের। সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। পরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও খোঁজ শুরু করেছিল শ্রমিকেরা। পাওয়া যায়নি তাঁকে।
আরও পড়ুন:
সন্ধ্যার সময় জলাশয়ের অন্য প্রান্তে একটি বাঁশবাগানে গোবিন্দকে শুয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। তিনি ডাকাডাকি করে অন্যদের জড়ো করেন। ঘুম ভেঙে উঠে বসেন গোবিন্দ।
সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ গোবিন্দকে থানায় নিয়ে যায়। গোবিন্দর সহকর্মীরা বলছেন, নেশা করে কাজে ফাঁকি দিয়ে কখন জলাশয় থেকে উঠে পাশের বাঁশবাগানে গিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন কেউ ঠাওর করতে পারেননি। পুলিশ সূত্রেও খবর, মত্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। গোবিন্দর কাণ্ডকারখানা নিয়ে হাসাহাসি করছেন স্থানীয়েরা। ধনেশ বর্মনের, “আমরা তো ভেবেছিলাম, কচুরিপানার তলায় বুঝি চাপা পড়েছে। এত খোঁজাখুঁজি হল। ওকে যে এ ভাবে পাওয়া যাবে, কারও মাথাতেই আসেনি।’’