বেতন ও পেনশন বকেয়া। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশ পথে পচনশীল বর্জ্য ফেলে আন্দোলনে নামলেন সাফাইকর্মীরা। বার বার আশ্বাস দেওয়া হলেও সাফাইকর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সমস্যা মিটছে না বলে দাবি। মঙ্গলবার প্রতিবাদে পুরসভা ঘেরাও করল জলপাইগুড়ি সাফাই কর্মী একতা মঞ্চ। দ্রুত সমস্যা না মিটলে শহরের ব্যস্ততম বড় পোস্ট অফিস মোড়ে অবরোধ করা হবে বলে জানান সাফাইকর্মীরা।
জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রায় তিন শতাধিক অস্থায়ী সাফাইকর্মী দীর্ঘদিন কাজ করেন। কেউ পনেরো বছর, কেউ কুড়ি বছর ধরে কাজ করছেন। অভিযোগ, ওই কর্মীদের গ্র্যাচুইটি বকেয়া রয়েছে। মঙ্গলবার শহরে মিছিল করে পুরসভার মূল গেটের সামনে জমায়েত হন সাফাইকর্মীরা। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দেন। পুরসভার মূল গেট খুলে কয়েকশো সাফাইকর্মী পৌঁছে যান প্রশাসনিক ভবনের সামনে। সেখানে পুরপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলেন। বর্জ্য নিয়ে এসে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। দুর্গন্ধ ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় বচসা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে পুলিশ। পুরপ্রধানের কাছে দাবিপত্র দেওয়া হয়।
জলপাইগুড়ি সাফাইকর্মী একতা মঞ্চের আহ্বায়ক প্রতাপ রাউত বলেন, ‘‘কর্মীদের বেতন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন বকেয়া। মাসের নির্দিষ্ট দিনে বেতন ও পেনশন দিতে হবে। সেই দাবিতেই বিক্ষোভ।’’ মঞ্চের সম্পাদক অভিষেক রাউত বলেন, ‘‘পুরসভার বর্জ্য ফেলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দ্রুত বকেয়া বেতন ও পেনশন দেওয়া না হলে বড় পোস্ট অফিস মোড় অবরোধ করা হবে।’’
পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘গত মাসেও বেতন দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসের বেতন ৩১ জুলাই পাবেন। পেনশনের জন্যে দুই কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারের তরফে পেলেই দেওয়া হবে। ভোটের কারণে দেরি হয়েছে। আশা করছি দ্রুত নিয়মিত পেনশন চালু হবে।’’