শিলিগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজ সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ হলেন শিলিগুড়ি পুরসভার কমিশনার বীর বিক্রম রাই। মঙ্গলবার সকালে পুরসভার আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি সেবক রোড, পাঞ্জাবি পাড়া এবং হায়দারপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় একাধিক জায়গায় রাস্তার পাশে স্তূপ হয়ে থাকা আবর্জনা দেখতে পান তিনি। কোথাও আবার সাফাইকর্মীদের অনুপস্থিতিও নজরে আসে। এর পরেই দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন কমিশনার। পাঁচ নম্বর বরোর অফিসারকে শো-কজ় করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এক ওয়ার্ড সুপারভাইজ়ারকে এলাকায় আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগে জরিমানা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ দিন সেবক রোডে বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ হোর্ডিং রয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মীদের কাছে জানতে চান কমিশনার। সেই সময় বিজ্ঞাপন বিভাগের এক কর্মী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে আসতেই ওই কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন কমিশনার। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেবক রোডে পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকজন সাফাই কর্মী অনুপস্থিত থাকায় তাঁদের বেতন কাটার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার ধারে হাইড্রেন দখল করে অবৈধ নির্মাণগুলি ভেঙে দেওয়া হয়। এক ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে হাইড্রেনের উপর তৈরি করা বাগানও ভেঙেদেওয়া হয়।
এর পর কমিশনার হায়দারপাড়া এলাকায় পৌঁছে বেশ কয়েকটি বাড়ির সামনে হাইড্রেনে আবর্জনা ফেলার ঘটনা হাতে-নাতে ধরেন। কয়েকটি দোকানের সামনেও রাস্তার উপরে আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে ভবিষ্যতে রাস্তা বা হাইড্রেনে নোংরা না ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিদর্শন শেষে কমিশনার বীর বিক্রম রায় বলেন, ‘‘শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জঞ্জাল পরিষ্কার নিয়ে বহু অভিযোগ আসছে। অনেক জায়গায় জঞ্জাল পড়ে থাকছে। তা দেখতেই বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় কর্মীরা অনুপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতি একশো শতাংশ করতে হবে।’’