কে মন্ত্রী হচ্ছেন জলপাইগুড়িজেলা থেকে?
আপাতত এই প্রশ্নেই সরগরম জেলা বিজেপি। সম্ভাব্য তিনটি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কান পাতলে দৌড়ে এগিয়ে থাকা একটি নাম শোনা যাচ্ছে। খবর মিলছে, সঙ্ঘ পরিবারের পছন্দ-ই সেই নামকে ঢের এগিয়ে দিয়েছে মন্ত্রিত্বের দৌড়ে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে পুজোর আগেই জলপাইগুড়ি জেলা থেকে নির্বাচিত কোনও বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে লোকভবনে শপথনিতে চলেছেন।
সোমবার জলপাইগুড়িতে এসে নতুন মন্ত্রী নিয়ে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। জল্পেশের মাঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি জলপাইগুড়ি থেকে মন্ত্রিসভায় সহকর্মী পাব। আপনারা বিষয়টি দেখতে পারবেন।’’ রাজ্যে বিজেপি মন্ত্রিসভা গঠনের সময়ে হাতেগোনা যে কয়েকটি জেলা মন্ত্রী পায়নি তার মধ্যে জলপাইগুড়ি রয়েছে। অথচ জলপাইগুড়ি জেলার সাতটি বিধানসভা আসনের সবকটিতেই এ বার বিজেপি জিতেছে। সে কারণে বিজেপির অন্দরেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সে সময়ে শোনা গিয়েছিল অদূরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ রয়েছে। সে সময়ে জলপাইগুড়ি জেলার শিকে ছিঁড়তে পারে। সোমবার শুভেন্দুর রাজ্য মন্ত্রিসভায় জলপাইগুড়ির অর্ন্তভুক্তি নিয়ে ঘোষণার পরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তবে কি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার দতরজা জলপাইগুড়ির জন্য বন্ধ হল? বিজেপির এক জেলা নেতার কথায়, ‘‘এখন যে যে জেলা থেকে সাংসদরা কেন্দ্রে মন্ত্রী হয়েছেন, সেই জেলা থেকে কী রাজ্য মন্ত্রিসভায় কেউ নেই?’’
তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে যে প্রশ্নটি তোলপাড় ফেলেছে, তা হল কে হবেন রাজ্যে মন্ত্রী?
জলপাইগুড়ির সাতটি আসনের মধ্যে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং নাগরাকাটায় পুনা ভেংরা দ্বিতীয়বার নির্বাচিত। বিধায়ক হিসেবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে চর্চায় রয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া মালবাজারের বিধায়ক শুক্রা মুন্ডাও। তবে বিজেপি একটি সূত্রের দাবি, এই তিন নাম নিয়ে রাজ্যে মন্ত্রিসভা গঠনের সময়েই আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু ঐক্যমতে আসা যায়নি। বাকি চার জনের মধ্যে জলপাইগুড়ির বিধায়ক তথা আইনজীবী অনন্তদেব অধিকারী, রাজগঞ্জের দীনেশ সরকার, ধূপগুড়ির নরেশ রায় এবং ময়নাগুড়ির ডালিম রায় রয়েছেন। জলপাইগুড়িতে সবচেয়ে বেশি ভোটে বিজেপি জিতেছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসন। তারপরে জলপাইগুড়ি এবং ময়নাগুড়ি। এই তিন আসনের বিধায়কদের নামও পৃথক ভাবে বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি জেলার মন্ত্রী বাছতে ঝকঝকে ভাবমূর্তির, বিতর্কহীন কোনও মুখকে গুরুত্ব দেওযা হোক তেমনটাই সঙ্ঘ বার্তা দিযেছে বলে খবর। বিজেপি সূত্রের দাবি, সেই বার্তাতেই সঙ্ঘ বুঝিয়ে দিয়েছে তাঁদের কাকে পছন্দ।
বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, ‘‘মন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে বলার এক্তিয়ার আমার নেই। তা ঠিক করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।”