এ বছর উত্তর দিনাজপুর জেলার বেশিরভাগ দুর্গাপুজোর মণ্ডপে এই প্রথম খাদ্য সুরক্ষা সম্পর্কে বাসিন্দাদের সচেতন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সেই সঙ্গে, ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে জেলার বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
দফতরের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে জেলার বহু গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানেরা নিয়মিত কার্যালয়ে যাচ্ছেন না। ফলে এ বছর জেলায় ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে। তাই পুজোকে কেন্দ্র করে বাসিন্দাদের ওই দুই রোগ রুখতে সচেতন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জেলার নয়টি ব্লকের কয়েক হাজার পুজো মণ্ডপে খাদ্য সুরক্ষা ও ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়া রুখতে বাসিন্দাদের সচেতন করতে বহু স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন। এত স্বাস্থ্যকর্মী কোথায় মিলবে, সেই প্রশ্নে চিন্তায় পড়েছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের দাবি, সমস্যা মেটাতে আশাকর্মী ছাড়াও জেলার বেশিরভাগ পঞ্চায়েত ও চারটি পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীদের ওই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাসের দাবি, “পুজো মণ্ডপে বহু মানুষ ভিড় করেন। ফলে, খাদ্য সুরক্ষা সম্পর্কে ও ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়া রুখতে ফ্লেক্স, পোস্টার, লিফলেটের মাধ্যমে ও মাইকিং করে বহু মানুষকে কম সময়ে এ সব বিষয়ে সচেতন করা সম্ভব হবে।”
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাসে জেলার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ, ফাস্টফুড, মিষ্টি-সহ খাবারের দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির প্রমাণ মিলেছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, “বাসিন্দারা হোটেল, রেস্তরাঁ, ফাস্টফুড, মিষ্টি-সহ বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকে কী ধরনের খাবার কিনে খাবেন ও প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, পুজো মণ্ডপে সেই বিষয়ে সচেতন করা হবে।” এ বছর এখনও পর্যন্ত জেলায় ১৭৪ জন ডেঙ্গিতে ও ১৭২ জন ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া রুখতে নিয়মিত এলাকার জমা জল, আবর্জনা পরিষ্কার ও মশা মারার কৌশল সম্পর্কে পুজো মণ্ডপে সচেতনতামূলক প্রচার চলবে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দাবি।