এ বার খেলার মাঠকে বিদায় জানালেন এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মণ। সম্প্রতি তিনি রেলের চাকরি ছেড়েছেন। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। ভোটে হারের পরে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে পুরোপুরি খেলায় মন দেবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎই শুক্রবার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের ছবি-সহ একটি পোস্টার ছড়িয়ে দেন। সেই পোস্টারে ছিল অ্যাথলেটিক্স থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা। সেখানে স্বপ্না ঘোষণা করেন, ‘অ্যাথলেটিক্স ক্যারিয়ারকে বিদায় জানালাম।’ সঙ্গে লেখেন, ‘অনেক স্মৃতি, অনেক লড়াই, আর বুক ভরা ভালবাসা নিয়ে আজ এই অধ্যায়ের সমাপ্তি। ধন্যবাদ সবাইকে পাশে থাকার জন্য।’ প্রশ্ন উঠেছে, পুরোপুরি খেলায় মন দেওয়ার কথা বলেও তিনি হঠাৎ খেলার মাঠ ছাড়লেন কেন?
সমাজমাধ্যমের পোস্টে স্বপ্না খেলতে গিয়ে অতীতের নানা শারীরিক চোট-আঘাতের প্রসঙ্গ তুলে জানিয়েছেন, এখন সেভাবে তাঁর শরীর নিতে পারছে না। তাই খেলা থেকে অবসর। জ্ঞানত, অজ্ঞানত তাঁর জন্য কেউ দুঃখ পেলে ক্ষমাও চেয়েছেন। তাঁর মন শক্ত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন পোস্টে। তবে হঠাৎই এই সিদ্ধান্ত কেন?
প্রশ্নের উত্তর মেলেনি, কারণ এ দিন স্বপ্না ফোন তোলেননি। স্বপ্নার ঘনিষ্ঠরাও জবাবহীন। স্বপ্না তাঁদের অনেকের ফোন তোলেননি। তবে স্বপ্নার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির কথায়, ‘‘এমনিতে ও জেদি মেয়ে। কিন্তু হঠাৎ করে অচেনা মাঠে ওকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভাল কোচ না পেলে জানেন তো খেলোয়াড়দের সমস্যা বাড়ে, তেমনই কিছু খুব সম্প্রতি ঘটেছিল। তবে আসলে খেলার মাঠ কেন ছাড়ল কে জানে!’’ ঘনিষ্ঠদের কেউ-কেউ দাবি করেছেন, ভোটে হারের পরে সোনার মেয়ে অভিমানী ছিলেন। নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরে অনেকেই তাঁর পাশে থাকেননি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন। গত বিধানসভা ভোটের আগে আচমকাই তৃণমূলে যোগ দিয়ে স্বপ্না রাজগঞ্জে প্রার্থী হয়েছিলেন। ভোটে হেরে যান তিনি। নিজের বুথেও পিছিয়ে ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থীর থেকে।
২০১৮ সালে স্বপ্না এশিয়াডে সোনা জিতেছিলেন। সেদিন উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া পাতকাটা এলাকার কালিয়াগঞ্জ-সহ স্বপ্নার পাড়া। এ দিন স্বপ্না হঠাৎ খেলার মাঠ থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে সেই পাড়া, কালিয়াগঞ্জ ছিল কার্যত নিস্তরঙ্গ।