শীতের মরসুমে চা পাতা তোলা বন্ধের প্রথা ফেরত আনছে চা পর্ষদ। কবে থেকে চা পাতা তোলা বন্ধ হবে তা স্থির করতে চা উৎপাদক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বৈঠকে ডেকেছে চা পর্ষদ তথা টি বোর্ড। বহু বছর ধরে চা পাতা তোলা শীতের সময়ে বন্ধ থাকে। শীতের মাসতিনেক চা গাছের পরিচর্যা হয়। পরিচর্যার পরে প্রথম ফ্লাশের চা পাতার গুণগতমান ভাল হয়। এই প্রথায় ছেদ পড়েছিল গত বছর। শীতের সুখা সময়ে চা পাতা তোলা বন্ধ হবে কি না তা উৎপাদকদের উপরেই ছেড়ে দিয়েছিল বোর্ড। যদিও এ বছর থেকে ফের শীতের সময়ে পাতা তোলা বন্ধকরা হবে।
টি বোর্ডের এক কর্তার কথায়, ‘‘গত বছর চা পাতা তোলা শীতকালে কখন বন্ধ হবে তার পুরোটাই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল চা বাগান এবং উৎপাদকদের উপরে। কিন্তু বহু বাগান ঘোর শীতের সময়েও চা পাতা তুলেছে। সেই পাতা থেকে উৎপাদিত চায়ের মান খারাপ হয়েছে। যার প্রভাব গোটা দেশের চায়ের বাজারে পড়েছে, সে কারণেই এ বছর শীতকালে ফের চা পাতা তোলা বন্ধ হবে, এমনিই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’
শীতকালকে চা বলয়ে শুখা মরসুম বলা হয়। শীতের সময়ে চা পাতার রস কমে যায়। তখন চা গাছের মাথা কেটে ফেলা হয়। কিছু বাগান মালিক অতিরিক্ত মুনাফার কারণে শীতকালেও পাতা তোলা চালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সে কারণে পাতা তোলা বন্ধ এবং শুরু করার তারিখ টি বোর্ড আগে জানাত। গত বছর অন্য পরীক্ষার পথে হাঁটে বোর্ড। বোর্ডের একটি সূত্রের দাবি, সেই পরীক্ষা সফল হয়নি। এ দিকে, বটলিফ কারখানার সংগঠনের তরফে ৩০ নভেন্বর থেকে পাতা তোলা বন্ধ করার আর্জি জানানো হয়েছে।
অন্য দিকে, জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চা পাতা তোলার সুযোগ থাকুক, সেই আর্জি টি বোর্ডকে জানানো হয়েছে।’’