ভাল চিকিৎসা পরিষেবা পেতে অনেকের ভরসার জায়গা ঝাঁ চকচকে বেসরকারি হাসপাতাল৷ মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়। কিন্তু চিকিৎসার মান কতটা ভাল? শিলিগুড়ি শহরের একের পর এক বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য কমিশনের অভিযানে সেই প্রশ্নই চওড়া হল।
শিলিগুড়ির হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে বিবিধ অব্যবস্থার ছবি উঠে এসেছে শনিবার। রাজ্য সরকারের নির্দেশে স্বাস্থ্য কমিশনের প্রতিনিধিরা গিয়েছিলেন হাসপাতালগুলিতে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যেরা বেসরকারি হাসপাতালের আনাচে-কানাচে ঘুরে দেখেন। চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দার্জিলিং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তুলসী প্রামাণিক, জলপাইগুড়ি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকারেরা কোথাও কোথাও গিয়ে দেখেন গুদামে বা বেসমেন্টে ঠাসাঠাসি করে ডাক্তার দেখানোর অপেক্ষায় বসে কিংবা দাঁড়িয়ে রোগীরা। সামান্য জলপানের ব্যবস্থাটুকুও হাসপাতালে নেই। কোনও কোনও হাসপাতালে শৌচালয় নেই। জরুরি তলব করা হয়েছিল দমকলকে। ডাকা হয় পুরনিগমের প্রতিনিধিদেরও। অপ্রশস্ত ভবনে বিবিধ শয্যার নার্সিংহোম কী ভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কোথাও আবার এক চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন দেখতে চাওয়া হলেও তিনি তৎক্ষণাৎ তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ। বিভিন্ন ডাক্তারের চেম্বার এবং সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। এই সমস্ত অভিযোগে বেশ কয়েকটি নার্সিংহোম, হাসপাতালকে শো কজ় করেছে কমিশন। আবার সারপ্রাইজ ভিজিট হবে বলে জানিয়ে যায় স্বাস্থ্য কমিশন।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বসু বলেন, ‘‘সমস্যা অনেক রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিতও করা হয়েছে৷ ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরা আমাদের কথা দিয়েছেন যে তাঁরা দ্রুত সমাধান করবেন৷ নইলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কোথাও হাসপাতালে ঢোকার পরিসর অল্প। এই জিনিসগুলোও দেখতে হবে।’’ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে নারায়ণ বলেন, ‘‘অতীতে কী হয়েছিল, কে দায়ী, সে সব নিয়ে আমরা পরে ভাবব। আমরা ভবিষ্যতের জন্য এসেছি। নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলোকে। কারও যদি পরিষেবা নিয়ে সমস্যা থাকে তাহলে আমাদের জানাবেন।’’