কোথাও নৈবেদ্যে সাজানো হয়। কোনও বাড়ির আবার সপ্তমীর ভোজে তা চাই-ই। নবমীতে তার সঙ্গলাভ যেন দস্তুর অনেকের কাছে। দশমীতেও অনেকের পাতে তাকে ছাড়া চলবেই না। সেই ইলিশ মাছ কি এ বার বাড়ন্ত হতে চলেছে পুজোর সময়ে?
জলপাইগুড়ির মাছের বাজারে এমনই আলোচনা চলছে। মাছ ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, পুজোয় ইলিশ মাছ মিলবে না, তা হতে পারে না। কিন্তু দাম পড়বে বেশি। এখনই জলপাইগুড়ির বাজারে কেজি প্রতি ইলিশ মাছের দাম ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা। বাজারে জোগান না বাড়লে পুজোর সময়ে এই দাম কোথায় ঠেকবে, তা আন্দাজ করতে পারছেন না মাছের আড়তদারেরাই। আপাতত বাজারে যে ইলিশ মিলছে, তা মূলত ওড়িশার। মুম্বই, মায়ানমার থেকেও ইলিশ আসছে। তবে বিক্রেতাদের দাবি, স্বাদে ওড়িশার ইলিশই ভাল। সেই ইলিশই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রাজনৈতিক জটিলতার জেরে বাংলাদেশ এ দেশে ইলিশ না পাঠালেও পুজোর সময় তার জোগান কিছুটা বাড়বে বলেও আশা রয়েছে। তা অবশ্য হিমঘরে থাকা ইলিশ, গত মরসুমের। বরফে চাপা সেই ইলিশের স্বাদগন্ধে পুজোর সময়ে বাঙালির মন ভরবে কি না, তার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। জলপাইগুড়ির পাইকারি মাছ বিক্রেতা সংগঠনের সম্পাদক বিশ্বজিৎ মিত্র বললেন, “এ বার ইলিশের গতিক তেমন ভালঠেকছে না।”
দুর্গাপুজোর সঙ্গে ইলিশ মাছের সম্পর্কও অতি প্রাচীন। বেশ কিছু পুজো, বিশেষ করে বাড়ির পুজোয় ইলিশ মাছ ভোগে দেওয়া হয়। জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুরের রাজবাড়িতে সেই রেওয়াজ রয়েছে। অন্য যেখানে ভোগে জায়গা পায় না, সেখানে দশমীতে পান্তাভাতের সঙ্গে ইলিশ চাই। পুজো ঘিরেও ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তাতে সপ্তমী থেকে নবমী কোনও দিন বাছাইয়ে বাধা নেই। সব মিলিয়ে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যায়।
বিশ্বজিৎবাবুর কথায়, “গত বছর ইলিশের জোগান বেশি ছিল, দামও কম ছিল। এ বার বাংলাদেশ থেকে ইলিশের আসার আশা দেখতে পারছি না। কাজেই কী হবে বলা মুশকিল।” পুজোয় ইলিশ পাতে পড়বে তো বটেই, তবে মধ্যবিত্তের কতটা সাধ্যের মধ্যে থাকবে, তা নিয়েই রয়েছে দোলাচল।