তিরুপতি বালাজি মন্দির ও চারধামের আদলে তৈরি হচ্ছে পুজো মণ্ডপ। জলপাইগুড়ির পাতকাটা কলোনি ও পাতকাটা অগ্রণী সঙ্ঘের দুই পুজো কমিটি একে অপরকে টেক্কা দিতে ব্যস্ত।
গোশালা মোড় থেকে রংধামালির রোড স্টেশনে যাওয়ার আগে পাশাপাশি দু'টি পুজো কমিটি প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের মন কাড়ে। প্রতি বছর দুই পুজো কমিটির মণ্ডপেই নতুনত্বের ছোঁয়া থাকে। পাতকাটা কলোনি অগ্রণী সঙ্ঘ ক্লাব ও পাঠাগারের এবারের পুজো ৬৯ বছরে পড়ল। তিরুপতি বালাজি মন্দিরের আদলে তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপ। ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব সামগ্রী যেমন বাঁশ, কাঠ, কাপড়। এ ছাড়াও সুপারির খোল, সুপারির খোসা, হোগলা পাড়া ও বিভিন্ন গাছের ফল।
পুজো কমিটির দাবি, প্রতি বছর বিজয়া দশমীর পরেই পরের বছরের পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। সারা বছর অভিনব পুজো মণ্ডপ তৈরির সামগ্রী সংগ্রহের কাজ চলে। প্রায় ১৯ বছর ধরে বড় বাজেটের পুজো হয়ে আসছে। এবারের পুজো মণ্ডপ তৈরি করছেন কোচবিহার পুন্ডি বাড়ি লক্ষ্মণ বর্মণ। আলোকসজ্জায় জলপাইগুড়ির অনিমেষ ইলেকট্রিক্যাল ও অভিনব প্রতিমা গড়ছেন মৃৎশিল্পী বিজন পাল। পুজো কমিটির সহ-সভাপতি তপন ঘোষ বলেন, ‘‘১৯৫৮ সালে প্রথম পুজো সূচনা করেছিলেন অম্বিকা চরণ সরকার, ব্রজেন দত্ত, তারক ঘোষ-সহ বিশিষ্ট জনেরা। সেই পুজো সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিগ বাজেটের পুজো হয়েছে।’’
পিছিয়ে নেই পড়শি পাতকাটা কলোনি কালচারাল ক্লাব ও পাঠাগারের দুর্গা পুজো। কয়েক বছর ধরে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে টেক্কা দিয়ে চলছে এই ক্লাব। তাদের এ বছরের পুজো ৬৮ বছরে পড়ল। মণ্ডপের থিম করা হচ্ছে চারধাম। গঙ্গত্রী, যমুনেত্রী, কেদারনাথ, বদ্রিনাথের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। পাহাড়ের আদলে তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপ। প্রতিমায় থাকছে অভিনব চমক, পাথর কেটে তৈরি করা দুর্গা প্রতিমা। দর্শনার্থীরা একটি পাহাড়ে উঠবে সেখানে থাকবে চারধাম, পাহাড় থেকে নামার পর নজরে পড়বে গুহার ভিতরে মা দুর্গাকে। স্থানীয় শিল্পী মণ্ডপ তৈরি করছেন, আলোকসজ্জায় রয়েছেন কোচবিহারের শিল্পীরা। পুজো কমিটির সম্পাদক সুব্রত ধর বলেন, ‘‘পুজোর পাশাপাশি তিন মাস ব্যাপী বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজ করা হচ্ছে। এক সময় দু’টি পুজো এক সঙ্গে হত, এখন এলাকার জনবসতি বাড়ছে এই কারণে দু’টি পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতাও চলছে।’’