পুরপ্রধানহীন পুরসভা। সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতিও নেই জেলা পরিষদে। পুরসভা এবং জেলা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল। তবু পুরসভা, জেলা পরিষদে বোর্ড গঠনে দিশাহারা মালদহের তৃণমূল শিবির। সূত্রের দাবি, তৃণমূলের দিশাহীনতার সুযোগ নিয়ে জেলা পরিষদে বোর্ড গঠনে তৎপর কংগ্রেস এবং বোর্ড গঠনে সরাসরি না জড়িয়ে প্রশাসক বসানোর আশায় বিজেপি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর আগে, আগামী ৬ অক্টোবর মালদহ জেলা পরিষদ এবং ৭ অক্টোবর ইংরেজবাজার পুরসভার বোর্ড গঠনের কথা। বোর্ড গঠনের জন্য জেলা পরিষদ সদস্য এবং পুর-প্রতিনিধিদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বোর্ড গঠন নিয়ে দিশাহারা তৃণমূল শিবির। ইংরেজবাজারের পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। এখন পুরসভা সামলাচ্ছেন উপ-পুরপ্রধান সুমলা আগরওয়াল। পুরসভায় তৃণমূলের ২৫ জন, বিজেপির তিন জন এবং এক নির্দল পুর-প্রতিনিধি রয়েছেন। তৃণমূলের পুরপ্রধান কে হবেন, সে প্রশ্নে কার্যত দিশাহারা তৃণমূল। কারণ, পুরপ্রধান হওয়ার দৌড়ে তৃণমূলের একাধিক অভিজ্ঞ পুর-প্রতিনিধি রয়েছেন।
পুরসভার মতো একই অবস্থা জেলা পরিষদে। জেলা পরিষদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে অপসারিত হন সভাধিপতি লিপিকা বর্মণ ঘোষ, সহকারী সভাধিপতি আবু তৈয়ব মহম্মদ রফিকুল হোসেন। জেলা পরিষদের ৪৩ আসনের মধ্যে বিজেপি এবং কংগ্রেসের নয় সদস্য রয়েছেন। বাকিরা তৃণমূলের। সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি বাছাই নিয়েও তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের স্রোত বইছে। তৃণমূলের এক সদস্য বলেন, ‘‘আগে বোর্ড গঠনে রাজ্য নেতৃত্বের ‘হুইপ’ থাকত এবং তা পরিচালনা করতেন জেলা নেতৃত্ব। এ বার তা হচ্ছে না।’’
সূত্রের দাবি, তৃণমূলের এই ছন্নছাড়া অবস্থার সুযোগ নিতে তৎপর কংগ্রেস। দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বলেন, ‘‘বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই কংগ্রেসে যোগ দিতে চাইছেন। জেলায় শক্তিশালী হচ্ছে কংগ্রেস।’’ অন্য দিকে, বিধানসভার মুখ্য সচেতক তথা বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, ‘‘বিজেপি বোর্ড গঠনে নেই। তবে তৃণমূল বোর্ড গঠনকরতে না পারলে নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসক বসবেন।’’ তৃণমূল নেত্রী তথা উপ-পুরপ্রধান সুমলা বলেন, ‘‘প্রশাসক নন, জনপ্রতিনিধিই চেয়ারে বসবেন।’’