স্থানীয় এলাকায় প্রচলিত আছে সাত নদীর মন ভাল থাকলে, তবেই যাওয়া যায় টোটোপাড়ায়. মন ভাল থাকা অর্থাৎ নদীতে জল না থাকলে। জল না থাকলে শুকনো নদীনখাতের নুড়ি, পাথুর পেরিয়ে এগোবে গাড়ির চাকা। নদীতে জল থাকলে পেরনো অসম্ভব, কারণ নদী খাত সমতল থেকে অনেকটাই উঁচু। আর নদীতে জল নামে পাহাড় থেকে নেমে আসা হড়পা বানে। হড়পা বান তীব্র হলে গোটা জনপদ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা জেগে থাকে নেপালের মতো। তবে একটি নয় পরপর সাতটি নদী ঘিরে রেখেছে টোটোপাড়াকে। এই গ্রামেই দেশের অন্যতম আদিম জনজাতি টোটোদের বাস। এই গ্রামে যাওয়ার রাস্তাও আদিমতম বলে দাবি। নদীর উপরে কোনও সেতু নেই, রাস্তা নেই। তার উপরে ভুটানের জলে পুষ্ট সাতটি নদীখাত অস্বাভাবিক উঁচু হয়ে গোটা এলাকাকেই বিপর্যয়প্রবণ করে তুলেছে।
মাদারিহাট থেকে টোটোপাড়ার দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। এই পথেই রয়েছে একাধিক ঝোরা এবং নদী। সবই নেমে এসেছে ভুটান পাহাড় থেকে। জামতলা, বাঙরি, তিতি, খাসলান, ডয়মারা হাউড়ি, তংডু নামে বড় নদী ও পাহাড়ি খরস্রোতা ঝোরা রয়েছে। মূল তিনটি পাহাড়ি নদী হাউরি, বাংরি ও তিতি। বর্ষার সময়ে এই তিনটি নদীই আটকে দেয় পথ। ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টির জেরে নদীগুলিতে জলস্ফীতি কিংবা হাঠাৎ করে আসা হড়পা বানের জেরে অনেক সময়ই মাদারিহাটের সঙ্গে টোটোপাড়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক সময় নদীর মাঝপথে গাড়ি আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ফলে, বর্ষার মরসুমে দুর্দশার শেষ থাকে না এই টোটোপাড়ার বাসিন্দাদের। তার থেকেও বড় বিপদ নদীর ভরে যাওয়া খাত। নদীতে পলি জমতে-জমতে জলধারণ ক্ষমতা কমেছে। এক সঙ্গে বেশি জল নামলে আশপাশের এলাকাকে প্লাবিত করে। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে অথবা বড় আকারের হড়পা বান হলে ক্ষয়ক্ষতি মারাত্মক আকার নেবে বলে সেচ কর্তাদেরই আশঙ্কা।
উত্তরবঙ্গের এক সেচকর্তার কথায়, “তিস্তা নদীতে যে ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছিল সিকিম থেকে তার অর্ধেকও টোটোপাড়া লাগোয়া নদীগুলিতে নেমে এলে বেশ কয়েকটি জনপদের খোঁজই মিলবে না। সব নদী ড্রেজ়িং করতে হবে, না হলে বিপদ বাড়বে। এতদিন নানা পরিকল্পনা শোনা গেলেও বাস্তবায়িত হয়নি। এ বার দেখা যাক।’’ পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়া ধনীরাম টোটো বলেন, ‘‘রাস্তা হবে না ধরেই নিয়েছি। নদীর-ই বা কী আর হবে। তাই উড়ালপুল চেয়েছি আমরা যোগাযোগের জন্য।’’ সেচ দফতরের দাবি, নেপালের হড়পা বিপর্যয়ের পরে টোটোপাড়া নিয়েও নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।