মাত্র কয়েক দিন আগেই ফরাক্কায় রেল লাইনে ধসের জেরে কলকাতার সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। সেই দুর্ভোগ কাটতে না কাটতেই সোমবার ফের সমস্যায় পড়লেন যাত্রীরা। এ বার কাটিহার ডিভিশনের নিউ জলপাইগুড়ি-কিসানগঞ্জ শাখায় সিগন্যাল ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং একটি মালগাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ট্রেন চলাচল। তাতে আটকে পড়ে রাজধানী এক্সপ্রেস-সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
রেল সূত্রে খবর, সোমবার ভোর প্রায় ৪টা ৫০ মিনিট নাগাদ মাগুরজান এবং তিনমাইল স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে সিগন্যাল ব্যবস্থায় গোলযোগ দেখা দেয়। ফলে নিরাপত্তার কারণে একাধিক ট্রেনকে বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়। রেলের কর্মীরা মেরামতির কাজে নামেন। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পরে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সিগন্যাল ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যার শেষ হয়নি। একই সেকশনে একটি মালগাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় ফের ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। বিকল্প একটি ইঞ্জিন সেখানে এনে মালগাড়িটিকে সরানোর পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এই দিন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েন ডিব্রুগড়গামী নিউ দিল্লি-ডিব্রুগড় রাজধানী এক্সপ্রেস -এর যাত্রীরা। ট্রেনটি সকাল ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ কিসানগঞ্জ স্টেশনে এসে পৌঁছলেও প্রায় দু’ঘণ্টা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে ট্রেনটি গন্তব্যে রওনা দেয়। এর পাশাপাশি, নিউ জলপাইগুড়িগামী পদাতিক এক্সপ্রেস এবং দার্জিলিং মেলও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করে। কামাখ্যা-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসকেও কিসানগঞ্জ স্টেশনে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। অনেকেই স্টেশন ও রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিলম্বের কারণ জানতে চান। ঘোষণার মাধ্যমে সিগন্যাল বিভ্রাট ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানানো হয় যাত্রীদের। কাটিহার ডিভিশনের এক রেল আধিকারিক এই দিন বলেন, “ব্রজপাতে সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং মালগাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ার কারণে সাময়িক ভাবে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এই ঘটনার প্রভাব বেশ কিছু ট্রেনের সময়সূচিতে পড়েছে।”