দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (ডিএইচআর) ঐতিহ্যবাহী স্টেশনে দুর্ঘটনায় সাময়িক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পাহাড়ে টয় ট্রেন পরিষেবা। তার জেরে আপাতত বাতিল হয়ে গেল ‘জয় রাইড’ এবং ‘স্টেশন মহোৎসব’ অনুষ্ঠান।
বুধবার সকালে স্টেশন এলাকার লোকো শেডের ছাদ ভেঙে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, অস্থায়ী কর্মী-সহ মোট আট রেলকর্মী আহত হন। রবি শর্মা, শঙ্কর সেনগুপ্ত, পবন কুমার সিংহ, বিশ্ব শর্মা, বিপুল শর্মা, বসন্ত কুমার ছেত্রী, কিশোর সুনাম এবং বিনোদ কুমার নামে রেলকর্মীরা এখন হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আহতদের শারীরিক পরিস্থিতি জানতে গিয়েছিলেন কাটিহার বিভাগের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) কিরেন্দ্র নরাহ। তিনি প্রথমে হাসপাতালে যান আহত কর্মীদের দেখতে। স্টেশনের ছাউনির জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে এবং দুর্ঘটনা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, শতাব্দীপ্রাচীন হেরিটেজ কাঠামোর উপর দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মবহির্ভূত ভাবে আবর্জনা জমছিল। কিছু দিন ধরে টানা বৃষ্টি হয়েছে। ফলে জঞ্জাল অতিরিক্ত ভারী হয়ে ওঠে। তার কারণে এই বিপর্যয়।
কিরেন্দ্র জানিয়েছেন, তবে স্বস্তির বিষয়, ছাউনির ভিতরে থাকা মূল্যবান কোনও লোকোমোটিভ বা স্টিম ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়নি। জখম কর্মীদের শারীরিক আঘাতও তেমন গুরুতর নয়। সকলেই বিপন্মুক্ত। হেরিটেজ কাঠামোর সংরক্ষণ এবং পুনর্নির্মাণ প্রসঙ্গে ডিআরএম বলেন, ‘‘ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শিরোপাধারী যে কোনওজ় কাঠামোর সংস্কারে বিশেষ সতর্কতা ও সময়সীমার প্রয়োজন হয়। ইতিমধ্যে এই শেডটি ছাড়াও তিনধরিয়ার শেড সংস্কারের অনুমোদন ও প্রস্তাব পাশ হয়েছে। ধসে যাওয়া অংশের পুনর্নির্মাণ কাজও শীঘ্রই শুরু হবে।’’
এই দুর্ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাহাড়ের পর্যটন তথা পাহাড়ি ট্রেনের নিয়মিত সূচিতে। মেরামতি এবং উদ্ধারের সুবিধার্থে আগামী দু’দিন নয়টি ‘জয় রাইড’-এর মধ্যে পাঁচটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাষ্পীয় ইঞ্জিনচালিত স্টিম পরিষেবাও পুরোপুরি স্বাভাবিক করে ফেলা সম্ভব হবে।
অন্য দিকে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং মেরামতের কাজে অগ্রাধিকার দিতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ডিএইচআর স্টেশন মহোৎসব’ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী। মহোৎসবের নতুন তারিখ পরে জানানো হবে ঘোষণা করেছেন তিনি। অন্যান্য নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে কোডিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে হেরিটেজের সমন্বয় ঘটাতে ৫ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াং রেলওয়ে স্টেশনে ‘কোড ফর কমিউনিটিজ– টয় ট্রেন সংস্করণ’ অবশ্য নির্দিষ্ট সূচি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে।