দার্জিলিঙের সিটঙে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে বার্বিকিউয়ের আগুনে ঝলসে গিয়েছেন নববধূ নিকিতা সাহা। আপাতত শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তরুণীর শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষতই শরীরের উপরের অংশে। এই ঘটনায় এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা সমীর দাস। কিছু দিন আগেই নিকিতার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। নবদম্পতি মধুচন্দ্রিমায় সিটং গিয়েছিলেন। হোমস্টেতে বার্বিকিউয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনার মুহূর্ত ধরা পড়েছে। দেখা গিয়েছে, হোমস্টে-র বারান্দায় দম্পতি বসে আছেন। তাঁদের সামনে বার্বিকিউয়ের আয়োজন করা হয়েছে। উল্টো দিকে বসে আছেন আর এক জন। তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। তাঁকেই বার্বিকিউয়ের আগুনে কিছু ঢালতে দেখা যায়। তৎক্ষণাৎ দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুন লেগে যায় তরুণীর গায়েও।
আরও পড়ুন:
উল্টো দিকে বসে থাকা ব্যক্তি বার্বিকিউয়ে কী এমন ঢাললেন যে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠল? প্রশ্ন উঠেছে। এখনও পর্যন্ত তরুণীর পরিবারের তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করেননি। দার্জিলিং পুলিশ সুপার ওয়াই শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও বলেন, ‘‘ঘটনায় এফআইআর হয়েছে। তদন্ত চলছে। কী হয়েছিল, সেটা তদন্ত ছাড়া এখনই বলা সম্ভব নয়।’’
ঘটনার পর তরুণীকে প্রথমে স্থানীয় প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে শিলিগু়ড়ির হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, অধিকাংশ পোড়া ক্ষত শরীরের উপরের অংশে থাকায় তরুণী বেঁচে গেলেও যেতে পারেন। তবে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি এখনও সঙ্কটজনক। পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক তন্ময় গোস্বামীর মতে, বার্বিকিউতে মাখন ঢালতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে সকলকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করেছেন তিনি।