জলজীবন মিশন প্রকল্পে দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কাজ হয়েছে, সেখানে এই রাজ্যে বিগত সরকারের আমলে কাজ হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। মঙ্গলবার মালদহে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। মালদহ জেলায় জলজীবন মিশন প্রকল্পের কাজ নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন মন্ত্রী। জানা গিয়েছে, জেলায় ৭৯টি জায়গায় প্রকল্পের কাজ এখনও অর্ধ সমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং তিন মাসের মধ্যে সেই কাজগুলি শেষ করতে হবে বলে এ দিনের বৈঠকে দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মন্ত্রী। এ দিকে, বিগত সরকারের আমলে জলজীবন মিশন প্রকল্পের কাজের টাকা এ দিক-ও দিক হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মন্ত্রী এবং সে সবের তদন্ত চলছে বলেও দাবি করেন। বেআইনি ভাবে জলের সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি। বৈঠক শেষে মানিকচকের মথুরাপুরে থাকা জল উত্তোলন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
মূলত জলজীবন মিশন প্রকল্পের কাজকর্মের পর্যালোচনা খতিয়ে দেখতেই এ দিন মালদহ জেলা প্রশাসনিক ভবনে বৈঠক করেন জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। সেখানে দফতরের মালদহ জেলার দুটি ডিভিশনের বাস্তবতার পাশাপাশি জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর থেকে শুরু করে প্রশাসনের আধিকারিকরাও ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন বিজেপির বিধায়কদের পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল এবং কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়কেরাও। প্রশাসনিকসূত্রেই জানা গিয়েছে, পড়শি মুর্শিদাবাদ জেলার চেয়ে মালদহ জেলায় জলজীবন মিশন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি কিছুটা ভাল হলেও তা সন্তোষজনক নয়। মন্ত্রী বলেন, ‘‘এই জেলায় ওই প্রকল্পে ৮১ কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলা হচ্ছে, বিলও পাস হয়ে গিয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে জল নির্দিষ্ট জায়গা মত পৌঁছচ্ছে না। মালদহ জেলায় যে কাজগুলি ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে রয়েছে সেগুলি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।’’ এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‘এইরাজ্যে জলজীবন মিশন প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ এবং টাকা খরচের সঠিক হিসেব পর্যন্ত নেই। কেন্দ্রের টাকা এ দিক-ও দিক হয়েছে। আমরা কিছুটা বুঝতে পেরেছি, বাকিটা তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় যারা জড়িত তারা কেউ ছাড় পাবেন না।’’