রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বস্তির খবর। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই বার্ধক্য ভাতা মাসিক এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছিল। এ বার সেই ভাতা আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে মাসে দুই হাজার টাকা করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই হারে বিধবা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের মাসিক ভাতাও বাড়ানো হবে।
সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্পপত্রে বার্ধক্য, বিধবা ও বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের ভাতাবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ভোটে জিতে সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
আগে রাজ্যে এই তিন শ্রেণির উপভোক্তাদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ছিল এক হাজার টাকা। সরকার গঠনের পরই তা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়। গত জুলাইয়ের শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, ১ আগস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তারা বর্ধিত হারে ভাতা পাবেন। সেই ঘোষণার এক মাসের মধ্যেই ফের আরও ৫০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। তবে এখনই মাসে দুই হাজার টাকা মিলছে না। আগামী দিনে যোগ্য উপভোক্তাদের ভাতা বাড়িয়ে ওই অঙ্কে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্য দিকে, আগের সরকারের আমলে ভাতার জন্য জমা পড়া সমস্ত আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। ফলে যাঁরা আগে আবেদন করেছিলেন, তাঁদেরও নতুন করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের আমলের আবেদন আর কার্যকর থাকবে না এবং প্রত্যেককে ফের আবেদন করতে হবে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আবেদনপত্রগুলি কঠোর ভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। আবেদনকারীদের বয়স, আর্থিক অবস্থা এবং অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতার মাপকাঠি খতিয়ে দেখার পরই চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরি করবে প্রশাসন।
তবে মাসে দুই হাজার টাকা হারে বর্ধিত ভাতা কবে থেকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানাননি। প্রশাসনিক মহলের একাংশের ধারণা, নতুন আবেদন গ্রহণ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে। ফলে আগামী আর্থিক বছরের শুরু, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে বর্ধিত ভাতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।