পুজোর মাস দুই-তিন আগে থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়তেন তিনি। চাঁদা কত হবে, নাচ-গানের অনুষ্ঠান কী হবে, শ্রুতিনাটক কেমন হবে— আবাসনের পুজো নিয়ে ভাবনার অন্ত ছিল না। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বামুনাড়ার বহুতল আবাসনের সেই বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায় এ বার পুজোয় তাঁদের সঙ্গে নেই, মানতে পারছেন না পড়শিরা। বৃহস্পতিবার পঞ্চমীতে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দম্পতির জন্য রাখা হল দু’টি ফাঁকা চেয়ার। সেখানে লেখা কাজী নজরুল ইসলামের গানের লাইন: ‘আজো আসিলে না হায়, মোর অশ্রুর লিপি/ বনের বিহগী দিকে দিকে লয়ে যায়, তোমারে খুঁজে না পায়’।
কৈলাস ও মান সরোবর ভ্রমণে বেরিয়ে ২৬ অগস্ট নেপালের হড়পা বানের পরে নিখোঁজ হন অরিন্দম ও মৌসুমি। ডিভিসি-র প্রাক্তন কর্মী অরিন্দম ২০২৫ সালে অবসর নেন। তাঁদের একমাত্র মেয়ে অঙ্কিতা বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। পড়শিরা জানান, আবাসিক সংগঠনে অরিন্দম নানা দায়িত্ব নিতেন। প্রতি বছর পুজো আয়োজনে বড় ভূমিকা থাকত তাঁর। এ বার পুজোর জন্য সব প্রস্তুতি-বৈঠকে অরিন্দমের অভাব অনুভব করেছেন তাঁরা।
অনুপস্থিতিতেও অরিন্দম-মৌসুমিকে কী ভাবে পুজোয় প্রাসঙ্গিক রাখা যায়, সে নিয়ে আলোচনা হয় আবাসনে। আবাসিক সংগঠনের কর্তা গৌতম অধিকারী জানান, সপ্তমীর সকালে ঘট স্থাপন হয় মণ্ডপে। এ বার পুজোর ঘটের পাশাপাশি, অরিন্দম ও মৌসুমির মঙ্গল কামনায় পৃথক একটি মঙ্গলঘট রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। গৌতম জানান, প্রতি বছর পুজোয় হাসির শ্রুতিনাটক পরিবেশিত হয়। এ বার তিনি অরিন্দম ও মৌসুমির সঙ্গে কাটানো নানা স্মৃতির টুকরো ঘটনা নিয়ে একটি চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। উদ্বোধনের সন্ধ্যায় তা পরিবেশন করবেন ভেবেছিলেন। কিন্তু আবাসিকেরা তাঁকে জানান, উৎসবের শুরুতে এমন নাটক পরিবেশন হলে, অনেকেই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন না। তাই শুধু অরিন্দম ও মৌসুমির স্মৃতি নিয়ে বক্তব্য রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ দিন গৌতম সে বক্তব্য রাখেন। নিখোঁজ দম্পতির জন্য রাখা হয় ফাঁকা চেয়ার। গৌতম বলেন, ‘‘আমরা ওঁদের অভাব খুব
বোধ করছি।’’
অরিন্দমদের সঙ্গেই নেপালে গিয়ে নিখোঁজ দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের দম্পতি দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেনাচিতির শ্রীনগরপল্লির সুভাষচন্দ্র ঘোষ। দেবাশিসের বাড়ি বন্ধ পড়ে রয়েছে। তাঁদের প্রতিবেশী কৌশিক মানি, বিপ্রদা ঠাকুরেরা বলেন, “পুজোর সময়ে পাড়ার একটা বাড়িতে এমন আঁধার, মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে।” সুভাষচন্দ্রের ভাই বিভাস জানান, পুজোর সময়ে তাঁরা সবাই সময় কাটান শহরের চতুরঙ্গ ময়দানে। বিভাস বলেন, “পুজো চলে এল। বাড়িতে আমরা দাদার কথাই
আলোচনা করছি!”