নেপালে গত ২৬ অগস্ট হড়পা বানের পরে এখনও নিখোঁজ পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জন। এঁদের অধিকাংশই পর্যটক। তাঁদের পরিজনের সঙ্গে আজ, বুধবার নবান্নে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিখোঁজদের দলে রয়েছেন প্রয়াত রাজনৈতিক নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ও। তাঁর সম্পর্কে সমাজমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোয় আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন শর্মিষ্ঠার স্বামী প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়।
শুভ্রাংশু সমাজমাধ্যমে স্ত্রী-সহ অনেকের চিন-তিব্বত সীমান্তে সেনা বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ছাউনিতে সংযোগহীন অবস্থায় আটকে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। ইমেলে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারের আবেদনও জানান। সেই ‘পোস্ট’ দ্রুত ছড়ায় এবং বয়ান বদলে চিন সীমান্তে শর্মিষ্ঠাকে উদ্ধার, এমনকি, তিনি বাড়ি ফিরছেন বলেও লেখেন অনেকে।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, নিখোঁজদের তথ্য পেলে তা সরকারি ভাবে জানানো হবে। মঙ্গলবার শুভ্রাংশু বলেন, ‘‘বলেছিলাম, চিন ও তিব্বতে ওরা থাকতে পারে। অপপ্রচার হচ্ছে কেন? আমরাও চাই, প্রকৃত তথ্য আসুক।’’ তাঁর সংযোজন: ‘‘আমার ধারণা, চিন ও তিব্বত সীমান্তে কিছু সূত্র লুকিয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’’
নিখোঁজদের পরিজনকে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে আনার ব্যবস্থা করছে পুলিশ। এর আগে, মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল-বৈঠকে যুক্ত হতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের নিখোঁজ অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী স্বপনকুমার সিংহের পরিজন। তবে এ বার তাঁরা নবান্নে আসছেন। মঙ্গলবার জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার সঙ্গে দেখা করে স্বপনের দাদা মিলন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইব, ভাইয়ের পেনশনের কী হবে! ডিএনএ-র নমুনা দেওয়ার পরে, আর কোনও তথ্য পাইনি। সে সম্পর্কেও জানতে চাইব।” পুলিশ সুপার বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকেই ওঁদের নিয়ে যাওয়া হবে। ক্ষতিপূরণ করতে পারব না। যেটুকু পাশে থাকা যায়।” হাওড়ার আন্দুলের অনিতা দাসের পুত্রবধূ মধুমিতা সরকারের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে কিছু খবর পাব, আশা করছি।’’
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতি মৌ ও স্বপন মণ্ডলের পুত্র উষ্ণীষ নেপালে গিয়েও বাবা-মায়ের খোঁজ পাননি। তিনিও জানিয়েছেন, নবান্নে যাবেন। যাবেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের সরিষার কেয়া প্রামাণিক ও মগরাহাটের মৌখালির মিতালি মণ্ডলের পরিজনও। শিলিগুড়ির নিখোঁজ সমর মণ্ডলের ভাই অজয় মঙ্গলবারই কলকাতা রওনা দিয়েছেন।
নেপালের বিপর্যয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ত্রিশূলীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী বাঁকুড়ার ইঁদপুরের অশোক পাল ও পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘির সন্দীপকুমার গড়াই। সন্দীপের শ্যালক রিন্টু সেন বলেন, ‘‘সবাই আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু কোনও খবর আসছে না।” মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যাচ্ছেন অশোকের বাবা মুক্তারাম ও স্ত্রী জবা। পুলিশের সঙ্গে ভোরেই রওনা দেবেন তাঁরা। মুক্তারাম বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানাব, যাতে ছেলেকে খুঁজে দেন।”